গত সপ্তাহান্তে কারাকাসে সংঘটিত নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন interim সরকারকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ, যাকে ট্রাম্প প্রশাসন “ইন্টারিম অথরিটিজ” বলে উল্লেখ করেছে। ডেলসি রদ্রিগেজের নির্বাচিত হওয়া, মারিয়া করিনা মাচাদোর পরিবর্তে, এবং এর পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্নগুলো এখনও অব্যাহত।
ডেলসি রদ্রিগেজ, নিকোলাস মাদুরোর প্রাক্তন সহকারী ও মাওবাদী গেরিলার কন্যা, তার রাজনৈতিক পটভূমি ও পারিবারিক সংযোগের কারণে ট্রাম্পের দৃষ্টিতে “স্থিতিশীলতা” প্রদানকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। তার পূর্ববর্তী পদবী ছিল মাদুরোর সরকারে উপ-প্রেসিডেন্ট, যা তাকে বর্তমান শাসন কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ভেনেজুয়েলা দূত চার্লস শাপিরো, যিনি জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় ক্যারাকাসে দায়িত্ব পালন করেন, তিনি এই সিদ্ধান্তকে “গণতন্ত্রের চেয়ে স্থিতিশীলতা”কে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “তারা স্বৈরশাসনকে বজায় রেখেছে, যদিও স্বৈরশাসক নিজে নেই। সহায়করা এখনও সেখানে আছে।” শাপিরো আরও যোগ করেন, “এটি ঝুঁকিপূর্ণ।”
মাচাদোর বিরোধী গোষ্ঠীকে সমর্থন করা এবং সম্পূর্ণ শাসন পরিবর্তন করা হলে, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও মাদুরোর সমর্থকদের (প্রায় ৩০% ভোটার) বিচ্ছিন্নতা ঘটার সম্ভাবনা ছিল। শাপিরোর মতে, এই ঝুঁকি ট্রাম্পের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবারের প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প মাচাদোকে “ভেনেজুয়েলায় সম্মানিত নয়” বলে উল্লেখ করে, রদ্রিগেজকে “শ্রদ্ধাশীল” হিসেবে বর্ণনা করেন। এই মন্তব্যের পর মার্কিন দূতাবাসের প্রাক্তন ডেপুটি চিফ অব মিশন কেভিন হুইটাকার, মাচাদোর ব্যাপক ভোটাভুটি ও তার গোষ্ঠীর বৈধতা উল্লেখ করে বলেন, “তার গতি বাতিল করা মানে পুরো গোষ্ঠীকে বাতিল করা।”
মাদুরোর দ্রুত পদত্যাগ ও রদ্রিগেজের তৎক্ষণাৎ ক্ষমতায় আসা কিছু বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে পূর্বে উপ-প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে সরকারী সূত্রে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিতকরণ নেই।
ভবিষ্যতে, ডেলসি রদ্রিগেজের interim সরকার কতদিন পর্যন্ত টিকে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা অনিশ্চিত। মাচাদোর সমর্থকরা আন্তর্জাতিক সমর্থন দাবি করে এবং পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মাদুরোর সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে চায়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন উত্তেজনা দেখা দেবে, যেখানে বিরোধী গোষ্ঠী ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের বাস্তবিক চাহিদা এই interim সরকারের কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ডেলসি রদ্রিগেজকে interim সরকারে স্থাপন করা, মাচাদোর রাজনৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই পর্যবেক্ষণ করা হবে।



