সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডিসি অফিসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সামনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মনোনয়ন যাচাই‑বাছাইতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেন। তিনি দাবি করেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা লেনদেনের প্রশ্নই আসে না” এবং প্রমাণিত হলে নিজে পদত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান।
প্রথম নির্বাচনী দিন (৩ জানুয়ারি) পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত হওয়ার পর, পরদিন (৪ জানুয়ারি) চারজনের পুনঃপরীক্ষা শেষে বৈধতা প্রদান করা হয়। তবে সিলেট‑১ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হক যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ না পেলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
একই সময়ে সিলেট‑৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এম এ মালেক ও সিলেট‑৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী রাশেদ উল আলমের মনোনয়নও স্থগিত হওয়ার পর পুনরায় বৈধতা পায়। রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলমের মতে, “মালেক ও রাশেদ সাহেব নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য হোম অফিসে আবেদনের রশিদ বা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন”। অন্যদিকে, এহতেশাম দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের কোনো নথি বা রশিদ প্রদান করতে ব্যর্থ হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের পরেও তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
মালেক ও রাশেদের জমা দেওয়া নথিগুলি লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠিয়ে যাচাই করা হয়েছে। ডিসি জানান, “যদি পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয় যে, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি, তবে তারা নির্বাচিত হলেও তাদের সদস্যপদ অবৈধ হয়ে যাবে”। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক প্রার্থীর কাছ থেকে দশ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সারওয়ার আলম গুজবকে “জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি করছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা” বলে নিন্দা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন অভিযোগগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
ডিসি আরও উল্লেখ করেন, “যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো প্রার্থী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি, তবে তাদের নির্বাচিত হলেও তাদের সদস্যপদ অবৈধ হয়ে যাবে” এবং একই সঙ্গে তিনি নিজের পদত্যাগের ইচ্ছা পুনরায় প্রকাশ করেন, যদি কোনো পক্ষপাতিত্ব বা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই বিবৃতি নির্বাচনী পর্যায়ে বাড়তি নজরদারির মধ্যে আসে, যেখানে বিভিন্ন দল ও পর্যবেক্ষক দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের দাবি করছেন। সরকারী দফতরগুলো এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত লঙ্ঘন প্রকাশ না করলেও, ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের যাচাই‑বাছাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় এবং এর সঠিক পরিচালনা না হলে পরবর্তী ধাপে আইনি বিরোধের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সিলেটের নির্বাচনী কমিটি এখন পর্যন্ত সকল প্রার্থীর নথি যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় হলে অতিরিক্ত সময় প্রদান করে নথি সংগ্রহের সুযোগ দিচ্ছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কিছু প্রার্থী ও দল এখনও এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তবে ডিসি অফিসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি।
আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল ও প্রার্থীদের বৈধতা নির্ধারণে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং সকল স্টেকহোল্ডারকে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



