ক্যারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আক্রমণ ঘটার পর ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেল্লো বুধবার রাষ্ট্র টেলিভিশনে জানিয়েছেন, এই হামলায় একশো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং সমান সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা একশো, আর আহতের সংখ্যা ততটাই।” তিনি এই আক্রমণকে “দেশের ওপর এক ভয়াবহ আক্রমণ” বলে বর্ণনা করেন।
আক্রমণের ফলে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদারো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আহত হন। কাবেল্লো বলেন, দুজনেই বর্তমানে সেরে উঠছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা উন্নত হচ্ছে। মাদারো ও ফ্লোরেসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি প্রকাশ পায় যখন তারা নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে উপস্থিত হন, যেখানে তারা নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়িয়ে আদালতে গিয়েছিলেন।
মাদারোকে গ্রেপ্তার করার পর এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের পরিণতি হিসেবে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক সংকট দেখা দেয়। মন্ত্রীর মতে, আহতদের মধ্যে বেশ কিছুজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছে এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
হামলার পর ভেনেজুয়েলীয় সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং আহতদের জন্য চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। এছাড়া, মৃতদের পরিবারকে সমর্থন জানাতে সরকার তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। কাবেল্লো উল্লেখ করেন, “আমরা শীঘ্রই আহতদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল ব্যবস্থা করব এবং মৃতদের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করব।”
যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণ এবং মাদারোর গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের আদালতে মাদারো ও ফ্লোরেসের উপস্থিতি তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। আদালতে তাদের উপস্থিতি একটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভেনেজুয়েলীয় সরকার এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছে। কাবেল্লো বলেন, “আমরা মানবিক সাহায্য এবং পুনর্গঠন কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন প্রত্যাশা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশটি পুনরায় স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আক্রমণের ফলে ভেনেজুয়েলায় বিদ্যুৎ, পানি এবং যোগাযোগ সেবায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। শহরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং রাস্তার অবরোধের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সেবা পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছে।
মাদারোর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, সরকারী সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি ও তার স্ত্রী ফ্লোরেসের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। দুজনেই আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর থেকে স্বতন্ত্রভাবে চলাচল করছেন।
এই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারী দফতরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। কাবেল্লো উল্লেখ করেন, “দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
আক্রমণের ফলে ভেনেজুয়েলায় মানবিক সংকটের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি সাহায্য প্রদান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মাদারোর গ্রেপ্তার এবং তার স্বাস্থ্যের উন্নতি আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের আদালতে তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে।
ভেনেজুয়েলীয় সরকার এই আক্রমণের পর পুনর্গঠন এবং পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করছে। কাবেল্লো উল্লেখ করেন, “দেশের পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।” এই পরিকল্পনার মধ্যে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং সামাজিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আক্রমণ ভেনেজুয়েলায় একশো মৃত্যুর কারণ হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। মাদারো ও তার স্ত্রী ফ্লোরেসের শারীরিক অবস্থা উন্নত হওয়ায় তারা নিউ ইয়র্কের আদালতে উপস্থিত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে মানবিক সহায়তা এবং পুনর্গঠন কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চাচ্ছে।



