২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন আসনের মধ্যে ভোটার সংখ্যায় বড় পার্থক্য রয়ে গেছে। ২০টি ঢাকা আসনের মধ্যে ঢাকা‑৮-এ মাত্র দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার চারশো একাত্তর ভোটার নিবন্ধিত, আর ঢাকা‑১৯-এ সাত লক্ষ চৌদ্দ হাজার শত্তর ভোটার রয়েছে। গাজীপুর‑২-এ আট লক্ষ চার হাজার তিনশো তেইশ ভোটার, আর গাজীপুর‑৪-এ তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার নয়শো সত্তর সাত ভোটার নিবন্ধিত।
সামগ্রিকভাবে, ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লক্ষের নিচে, আর বাকি ৬৩টি আসনে পাঁচ লক্ষের বেশি ভোটার রয়েছে। এই বৈষম্য কমাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার সমতা আনার চেষ্টা করা হয়। সেই প্রচেষ্টায় গড় ভোটার সংখ্যা চার লক্ষ বিশ হাজার পাঁচশো নির্ধারিত হয় এবং জেলাভিত্তিক সীমা নির্ধারণে বিভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ করা হয়।
প্রধান নীতি ছিল জেলার মধ্যে ভোটার পার্থক্য ৩০% এর মধ্যে রাখা, প্রতিটি জেলায় দুইটি আসন অপরিবর্তিত রাখা এবং তিনটি পার্বত্য জেলায় তিনটি আসন অক্ষুন্ন রাখা। মোট বারোটি পদ্ধতি অনুসরণ করে সীমা নির্ধারণের কাজ চালু করা হয়।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বিশেষায়িত সীমানা নির্ধারণ কমিটিও গঠন করা হয়। সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষজ্ঞদের সীমিত অংশগ্রহণের কারণে কিছু আসনে ভোটার সংখ্যার পার্থক্য সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে আসনগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে: দুই থেকে তিন লক্ষ ভোটারযুক্ত ২০টি আসন, তিন থেকে চার লক্ষ ভোটারযুক্ত ১০৩টি আসন, এবং সাত থেকে আট লক্ষ ভোটারযুক্ত তিনটি আসন—ঢাকা‑১৯, গাজীপুর‑১ এবং নোয়াখালী‑৪। আট লক্ষের বেশি ভোটার কেবল গাজীপুর‑২-এ রয়েছে।
সীমা নির্ধারণের বিশেষায়িত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৩০ জুলাই খসড়া প্রকাশের সময় নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গড় ভোটার সংখ্যা চার লক্ষ বিশ হাজার পাঁচশো নির্ধারণের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই গড়ের ভিত্তিতে একটি অতিরিক্ত আসন গাজীপুরে যোগ করা হলে সমতা বজায় থাকবে, আর গাজীপুরের নিচে বাগেরহাটে একটি আসন কমালে গড়ের কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে।
প্রথম খসড়া প্রকাশের পর ৩০ জুলাই থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপত্তি ও দাবি নিষ্পত্তি করা হয় এবং চূড়ান্ত গেজেট ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। তবে বাগেরহাট ও গাজীপুরে আসন সংখ্যার পরিবর্তন সত্ত্বেও, ১১ ডিসেম্বর পুরনো সীমানা পুনরায় গেজেট করা হয়।
মনোনয়নপত্র জমার আগে, ২৬ ডিসেম্বর পাবনা‑১ ও ২ এবং ফরিদপুর‑২ ও ৪ আসনের সীমানা পুনরায় সংশোধন করা হয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার সংখ্যায়ও পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচনী তালিকায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রার্থীদের ক্যান্ডিডেট তালিকায় পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হতে পারে।
সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচনী বিশ্লেষক আব্দুল আলীম উল্লেখ করেন, বিশেষায়িত কমিটির কাজের মাধ্যমে কিছু জেলায় ভোটার সংখ্যার পার্থক্য কমানো সম্ভব হলেও, সময়ের সীমাবদ্ধতা ও ডেটার যথাযথ আপডেটের অভাবে সব আসনে সমতা অর্জন করা যায়নি। তিনি এও জানান, ভবিষ্যতে সীমানা নির্ধারণে আরও বিস্তৃত তথ্য বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এইসব পরিবর্তনের পর, রাজনৈতিক দলগুলো নতুন সীমানা অনুযায়ী ক্যান্ডিডেট নির্বাচন ও প্রচারণা চালাবে। ভোটার সংখ্যার বৈষম্য কমাতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের সময় সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো পরবর্তী নির্বাচনে আরও সূক্ষ্ম সমন্বয়ের প্রয়োজন নির্দেশ করে।



