গাজীপুরের পুবাইল করমতলা এলাকায় ডাইরেক্ট স্পোর্টস অ্যান্ড লেইজারওয়্যার (বিডি) লিমিটেড নামের পোশাক কারখানা শ্রমিক বিক্ষোভের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ প্রকাশ করেছে। কর্মীসংঘাতের ফলে তিন দিন অবৈধভাবে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভিতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের দাবি ছিল ছাঁটাই বন্ধ করা, তবে ব্যবস্থাপনা কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইনের ভিত্তিতে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমিকরা অবৈধ ধর্মঘটের মাধ্যমে কাজ বন্ধ রেখে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যাহত করেছে। ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কর্মীরা কাজ পুনরায় শুরু করতে অস্বীকার করে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকায় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমস্ত উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক ফারুকুল আলমের মতে, এই কারখানাটি মূলত খেলাধুলা সংক্রান্ত পোশাক উৎপাদন করে। শ্রমিকদের অভিযোগের মূল বিষয় হল মাসিক ছাঁটাই, যেখানে প্রতি মাসে তিন থেকে চারজন কর্মীকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। তারা ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানিয়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়, তবে মালিকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো সুযোগ পাননি।
পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংকটের ফলে ভর্তুকি দিয়ে কারখানা চালু রাখা হয়েছিল। বর্তমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষিতে, নিরাপত্তা বিভাগে কোনো প্রভাব না রেখে, পুরো কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নোটিশের মাধ্যমে পুনরায় খোলার তারিখ জানানো হবে।
এই বন্ধের ফলে গাজীপুরের স্থানীয় গার্মেন্টস সাপ্লাই চেইনে সরবরাহের ধারা ব্যাহত হতে পারে। ডাইরেক্ট স্পোর্টস অ্যান্ড লেইজারওয়্যার গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করায়, উৎপাদন বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক অর্ডার পূরণে দেরি হতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান উভয়ই প্রভাবিত হবে।
গাজীপুরের গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মস্থলের শর্ত নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে, এই ঘটনা শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে। অনির্দিষ্টকালের বন্ধের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের দাবি পূরণে ত্বরান্বিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
ব্যবসা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হয় এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু না হয়, তবে একই অঞ্চলের অন্যান্য গার্মেন্টস ইউনিটে শ্রমিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস এবং রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
অন্যদিকে, শ্রমিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপত্তা ও চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। যদি মালিকপক্ষ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় যথাযথ ভর্তুকি বা বেতন কাঠামো সমন্বয় করে, তবে ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধের ঝুঁকি কমে যাবে।
সংক্ষেপে, গাজীপুরের ডাইরেক্ট স্পোর্টস অ্যান্ড লেইজারওয়্যার কারখানার বন্ধ শ্রমিক-মালিক সংঘাতের সরাসরি ফলাফল, এবং গার্মেন্টস সেক্টরে সরবরাহ শৃঙ্খল ও রপ্তানি আয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব উভয়ই প্রকাশ করে। নোটিশে উল্লেখিত নিরাপত্তা বিভাগের ব্যতিক্রমী অবস্থা নির্দেশ করে যে, উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ শ্রমিকের দাবি, আর নিরাপত্তা ঝুঁকি নয়।
কর্তৃপক্ষের ঘোষণার পর, নোটিশে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই যোগাযোগের অভাব সমস্যার সমাধানে বাধা সৃষ্টি করছে এবং পুনরায় কাজ শুরু করার সময়সূচি অনিশ্চিত রাখছে। ভবিষ্যতে সমন্বিত আলোচনা ও নীতি সমর্থন ছাড়া অনির্দিষ্টকালের বন্ধই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



