চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে সিলেট টাইটান্সের ম্যাচে ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয় ম্যান অব দা ম্যাচের উপাধি অর্জন করেন। তিনি ২১ বলের মধ্যে ৪৪ রান সংগ্রহ করে স্ট্রাইক রেট ২০৯.৫২ তৈরি করেন, যা বর্তমান বিপিএল সিজনের ৩৫টি ছোঁয়া ইনিংসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পারফরম্যান্স তার টি‑টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৭৪টি ইনিংসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ডও ভাঙে।
ইনিংসের শুরুতে জয় ধারাবাহিকভাবে রেজে গিয়ে দ্রুত স্কোর বাড়িয়ে তুলেন। বিশেষ করে আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের এক ওভারে তিনি দু’টি ছক্কা মারেন, যা দর্শকদের চোখে চমক ফেলেছিল। রুয়েল মিয়ার ওভারে তিনি ধারাবাহিক দু’টি ছক্কা দিয়ে আক্রমণকে তীব্র করেন, ফলে রানের গতি আরও বাড়ে। এই শটগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং দলের জয়ের ভিত্তি স্থাপন করে।
মাহমুদুলের এই পারফরম্যান্স শুধুমাত্র একক ইনিংসের রেকর্ড নয়, তার সামগ্রিক টি‑টোয়েন্টি দক্ষতারও প্রমাণ। গত সেপ্টেম্বর‑অক্টোবরের জাতীয় লিগ টি‑টোয়েন্টিতে তিনি ৩২৩ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন, যেখানে অন্য কোনো ব্যাটসম্যান ২২০ রানেরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। তার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেট বর্তমানে ১২১.৮৫, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; তবে এই ম্যাচে তিনি ১৫৫.২৮ স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন।
বিপিএল ছাড়াও তার টেস্ট ক্যারিয়ারও উজ্জ্বল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ২০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন এবং সাম্প্রতিক আইরল্যান্ড সিরিজে দু’টি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি তিনটি ফরম্যাটে নিয়মিত উপস্থিত, তবে সীমাবদ্ধতা ছিল যে ফরম্যাটে এখন তিনি উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখাচ্ছেন। তার এই উন্নতি শুরুর দুই প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মাহমুদুলের শটের পরিসর এবং ছক্কা মারার ক্ষমতা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। এক ম্যাচে তিনি সেঞ্চুরি করেন এবং ৯টি ছক্কা মারেন, আর অন্য একটি ৭৮ রানের ইনিংসে ৫টি ছক্কা যুক্ত করেন। এই পরিসংখ্যান তার আক্রমণাত্মক শৈলীর বিকাশকে নির্দেশ করে, যা টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশেষভাবে মূল্যবান।
আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টিতে তার প্রথম অভিজ্ঞতা ২০২৩ এশিয়ান গেমসে হয়, যদিও তিনি তখন জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। তবু এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রস্তুত হতে সহায়তা করেছে। বর্তমানে তিনি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে স্বীকার করেন, তবে ধারাবাহিক উন্নতির পথে অগ্রসর হওয়া স্পষ্ট।
মাহমুদুলের এই পারফরম্যান্সের পরবর্তী ধাপ হবে বিপিএল সিজনের বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার অবদান কীভাবে থাকবে, তা শীঘ্রই দেখা যাবে। তার বর্তমান ফর্ম এবং শটের বৈচিত্র্য দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গেম পরিবর্তনকারী খেলোয়াড় হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেবে।
সারসংক্ষেপে, মাহমুদুল হাসান জয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ম্যাচে ৪৪ রান, ২০৯.৫২ স্ট্রাইক রেট এবং ধারাবাহিক ছক্কা দিয়ে বিপিএল সিজনের অন্যতম উজ্জ্বল পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেছেন। তার টেস্ট অভিজ্ঞতা, জাতীয় লিগের শীর্ষ স্কোরিং এবং আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা তাকে বাংলাদেশের আধুনিক ব্যাটিং দিগন্তে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।



