সরকার ২০২৬ থেকে ২০৫০ পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য ২৫ বছরের বিদ্যুৎ‑শক্তি মাস্টার প্ল্যান উন্মোচন করেছে। পরিকল্পনা স্টেট হাউস জামুনা-তে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান কর্তৃক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সামনে উপস্থাপিত হয়, যেখানে বহু উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৭৭ থেকে ১৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় প্রয়োজন হবে।
পূর্ববর্তী ২০০৫, ২০১০ এবং ২০১৬ সালে গৃহীত তিনটি মাস্টার প্ল্যানের নীতিগত ঘাটতি চিহ্নিত করে, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এই সভায় সংক্ষিপ্তভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে শীর্ষ বিদ্যুৎ চাহিদা ৫৯,০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে, যেখানে বর্তমান চাহিদা প্রায় ১৬,৭০০ মেগাওয়াট। এটি ২০২৩ সালের পরিকল্পনায় অনুমান করা ৭০,৫০০ মেগাওয়াটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
২০২৩ সালের সমন্বিত বিদ্যুৎ‑শক্তি মাস্টার প্ল্যান, যা জাপানের জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (JICA) সমর্থনে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে চাহিদা অতিরিক্ত অনুমান এবং ব্যয়বহুল জ্বালানি উৎসের অন্তর্ভুক্তির জন্য সমালোচনা পেয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর, বিভিন্ন গোষ্ঠী স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানায়।
নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল সবার জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং টেকসই শক্তি নিশ্চিত করা, যা দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, শক্তি নিরাপত্তা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত দায়িত্বের মাধ্যমে অর্জিত হবে।
পরিকল্পনা দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমে এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বৈদ্যুতিক উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধি পরিবেশ ও সামাজিক চাপ বাড়াতে পারে বলে স্বীকার করে, পরিকল্পনায় পরিচ্ছন্ন ও অধিক দক্ষ প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, এক মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন ০.৬২ টন থেকে কমিয়ে ০.৩৫ টনে নামিয়ে আনা হবে।
এই হ্রাসের ফলে বার্ষিক প্রায় ৬৪.৫ মিলিয়ন টন CO₂ নির্গমন কমে যাবে, এবং ২০৫০ সালের মধ্যে মোট ১,৬০০ মিলিয়ন টন CO₂ নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
মাস্টার প্ল্যানটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে; প্রথম পর্যায় ২০২৬‑২০৩০ সময়কালে সম্পন্ন হবে।
এই উদ্যোগ সরকারকে শক্তি খাতের সংস্কার ও আধুনিকায়নের পথে দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করে, যা ভবিষ্যতে নীতি আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতায় প্রভাব ফেলতে পারে।



