বিপিএল‑এর বুধবারের ম্যাচে সিলেট টাইটান্স চট্টগ্রাম রয়্যালসের মুখোমুখি হয়ে একটি অপ্রত্যাশিত রেকর্ড তৈরি করেছে। সৈয়দ খালেদ আহমেদ দশম ক্রমে তিনটি ছক্কা মারেন, যদিও তিনি মাত্র দশ বলে নয়টি রান যোগ করতে পেরেছেন। এই পারফরম্যান্স তাকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক অর্জনে সাহায্য করেছে।
ম্যাচের শুরুর দিকে খালেদের বোলিং কঠিন ছিল; তিনি চার ওভারে ৫৫ রান conceded করে নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের পরিমাণে পৌঁছেছেন। এটি তার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং পারফরম্যান্স এবং তার দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।
বোলিংয়ের পর তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে দশম ক্রমে প্রবেশ করে মাত্র দশ বলে নয়টি রান তৈরি করেন, যার মধ্যে তিনটি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত। ছক্কাগুলো দ্রুতই দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, যা সিলেটের ভক্তদের জন্য এক মুহূর্তের স্বস্তি এনে দেয়।
বিপিএল ইতিহাসে দশম ক্রমে তিনটি ছক্কা মারার এই কৃতিত্ব প্রথমবারের মতো রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। এর আগে দশম ক্রমে দু’টি ছক্কা মেরেছেন কয়েকজন খেলোয়াড়, তবে তিনটি ছক্কা একই ইনিংসে দেখা যায়নি।
আবু হায়দার, মাশরাফি বিন মুর্তজা, ওয়াহাব রিয়াজ, তানভির ইসলাম এবং আকিফ জাভেদ সবই দশম ক্রমে দু’টি ছক্কা মেরেছেন। বিশেষ করে আবু হায়দার দুটি আলাদা ইনিংসে দু’টি করে ছক্কা মেরেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা দেখায়।
টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে দশম ক্রমে সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যা পাঁচ, যা মঞ্জুলা জয়বর্তনা এবং আকাশ দিপের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। খালেদের তিনটি ছক্কা এই রেকর্ডের কাছাকাছি একটি পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
মঞ্জুলা জয়বর্তনা ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার পুলিশ স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে ৩৬ রান করে ৫৮ বলের ইনিংসে পাঁচটি ছক্কা মারেছিলেন, যা তখন টি‑টোয়েন্টি ইতিহাসে শীর্ষে ছিল।
আকাশ দিপ ৩০ নভেম্বর বাংলার হয়ে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ৭ রান করে ৩১ বলের ইনিংসে পাঁচটি ছক্কা যুক্ত করেন, যা তাকে একই রেকর্ডের সহ-ধারক করে তুলেছে।
বিপিএলে দশম ক্রমে সর্বোচ্চ রান এখনো আকিফ জাভেদের অধীনে, যিনি রংপুর রাইডার্সের হয়ে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে ১৮ রান তৈরি করেছেন। তার এই পারফরম্যান্স এখনও রেকর্ডের শীর্ষে রয়েছে।
খালেদের ৯ রান যদিও রেকর্ডের দিক থেকে ছোট, তবে তিনটি ছক্কা তার ব্যাটিংয়ে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছে এবং দলের মনোবল বাড়াতে সহায়তা করেছে।
দর্শক ও সহকর্মীরা তার এই আক্রমণাত্মক শটগুলোকে প্রশংসা করেছেন, যা সিলেট টাইটান্সের জন্য একটি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে কাজ করেছে।
এই নতুন রেকর্ডের সঙ্গে খালেদ ভবিষ্যতে আরও বড় পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছেন, যদিও তার বোলিং এখনও উন্নতির প্রয়োজন।



