২৪ বছর বয়সী আফগানিস্তানের উন্মাদ ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ডেবিউ করার পর থেকে দ্রুতই নিজের নাম গড়ে তুলেছেন। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং তীক্ষ্ণ উইকেটকিপিং দক্ষতা তাকে বিশ্বব্যাপী ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন এবং একই সময়ে তার ভাই মাসুদ গুরবাজ চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে অংশগ্রহণ করছেন, যা দু’ভাইয়ের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
গুরবাজের মতে, বিপিএল তার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ ছিল এবং এখান থেকেই তিনি অন্যান্য লিগে সুযোগ পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশে খেলোয়াড় ও ভক্তদের উষ্ণ স্বাগত তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ভক্তদের উল্লাস, স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাস এবং দেশের সমর্থন তার পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা তাকে এই দেশে খেলতে আরও আনন্দিত করেছে।
বাংলাদেশের পিচের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গুরবাজের দৃষ্টিভঙ্গি সরল। তিনি বলেন, ক্রিকেটের মূল নীতি একই—ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ হোক, বিপিএল হোক, অথবা অন্য কোনো টুর্নামেন্ট। গেমের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা তাকে প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগকে মূল্যায়ন করেন এবং তার অর্জনকে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে চান।
গুরবাজের সাফল্যের পেছনে তিনি ব্যক্তিগত পরিশ্রমকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী লিগে নিজেদের স্থান তৈরি করছে। স্বাভাবিক প্রতিভা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, যদিও দেশের সুবিধা সীমিত, তবুও তারা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করছে। এই মনোভাবই আফগানিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আফগানিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পর্কে গুরবাজের মন্তব্যে দেখা যায়, দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান মজবুত করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা এবং দলের সমন্বিত কাজই বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল অর্জনের মূল চাবিকাঠি। এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে এবং বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার ইচ্ছা জোরদার করছে।
গুরবাজের ভাই মাসুদের চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। দু’ভাইয়ের একসাথে খেলায় আফগানিস্তানের ক্রিকেটের উত্থানকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়। ভাইবোনের এই সমন্বয় ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং দু’দলকে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা প্রদান করেছে।
বিপিএলের সময় গুরবাজের পারফরম্যান্সে তার আক্রমণাত্মক শৈলী এবং দ্রুত রিফ্লেক্স দেখা গেছে। তিনি ধারাবাহিকভাবে দ্রুত রান সংগ্রহ করে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার উইকেটকিপিং দক্ষতাও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে রক্ষা করেছে, যা তার বহুমুখী ক্ষমতাকে তুলে ধরেছে।
গুরবাজের মতে, বাংলাদেশে ক্রিকেটের পরিবেশ তার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং স্টেডিয়ামের উষ্ণতা তাকে প্রতিটি শটে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করে। এই ইতিবাচক পরিবেশ তার পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবং তাকে আরও উন্নতিতে উৎসাহিত করেছে।
আফগানিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন গুরবাজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য স্পষ্ট। তিনি নিজের দক্ষতা আরও উন্নত করে দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চান। তার লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান মজবুত করা এবং দেশের গর্ব বাড়ানো। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি কঠোর প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন।
গুরবাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তার বর্তমান পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আন্তর্জাতিক লিগে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশের টি২০ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে চান। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আফগানিস্তানের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সহায়তা করবে।
বিপিএল সিজনের শেষের দিকে গুরবাজের পারফরম্যান্স দলকে প্লে-অফে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার আক্রমণাত্মক শৈলী ও উইকেটকিপিং দক্ষতা দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে সাফল্য অর্জনে সহায়তা করেছে। এই সাফল্য তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, রহমানুল্লাহ গুরবাজের বাংলাদেশে অভিজ্ঞতা, তার ব্যক্তিগত পরিশ্রম এবং আফগানিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের লক্ষ্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। তার গল্প তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের উত্থানের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।



