প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়কে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে “এই অস্থির ও বিপজ্জনক সময়ে” দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। বর্তমান বাজেট ২০২৩ সালে অনুমোদিত ৯০১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রস্তাবিত পরিমাণে ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হবে।
ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় তিনি নতুন “স্বপ্নের সামরিক বাহিনী” গড়ে তোলার কথা বলেন, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম হবে। তিনি যুক্তি দেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন, এবং তা ট্যারিফ থেকে প্রাপ্ত আয়ের মাধ্যমে সহজে সংগ্রহ করা সম্ভব।
অন্য একটি পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিরক্ষা কন্ট্রাক্টরদের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও শেয়ারহোল্ডারদের পেমেন্টে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যদি তারা অস্ত্র সরবরাহের গতি বাড়াতে না পারে এবং নতুন উৎপাদন সুবিধা গড়ে না তোলেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি কন্ট্রাক্টরদের দ্রুত উৎপাদন ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে চান।
অর্থনীতিবিদরা পূর্বে সতর্কতা দিয়েছেন যে, দেশের ব্যয় ও আয়ের মধ্যে পার্থক্য বাড়ছে এবং তা আর্থিকভাবে টেকসই নয়। তবুও ট্রাম্পের মতে, ট্যারিফ থেকে আসা রাজস্বের মাধ্যমে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট সহজে পূরণ করা যাবে। তিনি ট্যারিফের ভূমিকা নিয়ে জোর দিয়ে বলেন, এটি দেশের আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে।
ট্রাম্পের এই উচ্চ ব্যয় পরিকল্পনা তার প্রথম মেয়াদ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন এবং এ বিষয়ে বহুবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।
সাম্প্রতিক পোস্টে ট্রাম্প রেথিয়নকে দেশের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণে সবচেয়ে কম সাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি রেথিয়নকে ত্বরিতভাবে উৎপাদন বাড়াতে এবং নতুন কারখানা ও যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানান। না হলে, তিনি রেথিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিভাগের চুক্তি শেষ করার ইঙ্গিত দেন।
রেথিয়নকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল, তবে এ মুহূর্তে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের ফলে কংগ্রেস ও প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারকদের মধ্যে বিতর্কের সম্ভাবনা বাড়ছে। বাজেটের বড় বৃদ্ধি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, ট্যারিফের আয় কতটা নির্ভরযোগ্য হবে এবং কন্ট্রাক্টরদের উপর আর্থিক চাপ কীভাবে প্রভাব ফেলবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। তবে স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের এই দাবির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও আর্থিক নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ হতে পারে।
ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়া, ট্যারিফ নীতি এবং কন্ট্রাক্টরদের উৎপাদন পরিকল্পনা এই প্রস্তাবের বাস্তবায়নকে নির্ধারণ করবে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।



