সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নির্ভয়ে, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের নির্দেশ জারি করেছে। এই সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রে প্রকাশিত হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের আগে ও পরে সাত দিনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
মোট ৪৯৫টি উপজেলায় থেকে ছয়টি—সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—বিজিবি মোতায়েনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বাকি ৪৮৯ উপজেলায় মোতায়েনের সূচনা ৮ ফেব্রুয়ারি এবং সমাপ্তি ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, যা ভোটগ্রহণের চার দিন আগে শুরু হয়ে দুই দিন পরে শেষ হবে।
বিজিবি ইতিমধ্যে নির্বাচনকালীন শৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে ১,১৫১টি প্লাটুন মোতায়েন করেছে। “ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার” বিধানের অধীনে এই ইউনিটগুলো মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের ভূমিকা পালন করবে, যার অর্থ তারা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা (ভিডিপি), কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সমন্বিতভাবে কাজ করবে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) ও কোস্ট গার্ডের সহায়তা বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকির এলাকায় দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য থাকবে।
মোট ৮ লক্ষাধিক নিরাপত্তা কর্মী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপি প্রায় ৫,৫০,০০০ সদস্য, পুলিশ প্রায় ১,৫০,০০০, সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১,০০,০০০ এবং বিজিবি প্রায় ৩৫,০০০। এই বিশাল মানবশক্তি ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রায় ৪৩,০০০ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং মোট ২,৬০,০০০ ভোটকক্ষ গঠন করা হয়েছে, যেখানে ভোটাররা তাদের ভোট দেবে।
বিজিবি মোতায়েনের সময়সূচি অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি শুরু হবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই সময়কালে নিরাপত্তা কর্মীরা ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে, সম্ভাব্য অশান্তি দমন করতে এবং ভোটগ্রহণের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে সাত দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক উপস্থিতি ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
র্যাব ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত সহায়তা বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকির এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে, ফলে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপ সম্ভব হবে। এই সমন্বয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াবে এবং ভোটগ্রহণের সময় অশান্তি কমাবে।
সরকার এই পদক্ষেপকে “শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর” নির্বাচন নিশ্চিত করার মূল উপায় হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বিস্তৃত নিরাপত্তা মোতায়েনের মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা না রেখে, নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করার লক্ষ্য স্পষ্ট।
নিরাপত্তা বাহিনীর বৃহৎ মোতায়েনের ফলে নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা কমে যাবে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণে উৎসাহ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অতএব, ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলে ফলাফলকে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার আশা করা যায়। নিরাপত্তা পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন নির্বাচনের সুষ্ঠু সম্পন্ন হওয়ার মূল চাবিকাঠি হবে।



