প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শীতকালীন জাতীয় ভাষণে তিনি ট্যারিফকে তার নীতি‑সেটের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি দেন যে ট্যারিফের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান, বেতন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। এই দাবিগুলি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হলেও ট্যারিফের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে এবং এই পরিবর্তন ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) জানায় যে ট্যারিফের শক মূল পরিকল্পনার চেয়ে ছোট হলেও তা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর করার প্রধান কারণ। তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১% হারে বৃদ্ধি পাবে, যা এক বছর আগে ৩.৩% অনুমান করা হয়েছিল।
IMFের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি “আমাদের ভয় থেকে ভালো, তবে প্রয়োজনের চেয়ে কম”। কোভিড‑১৯ পূর্বের গড় প্রবৃদ্ধি ৩.৭% থেকে হ্রাস পেয়ে এখন এই স্তরে নেমে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই গতি বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনের মানোন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণে অপর্যাপ্ত।
অন্যান্য আর্থিক বিশ্লেষণ সংস্থার পূর্বাভাসগুলো IMF‑এর তুলনায় আরও মন্দ। তবে ট্যারিফের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসাত্মক নয়, তা পেটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্সের মোরিস অবস্টফেল্ডের মন্তব্যে স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, বেশিরভাগ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, ফলে শকটি সীমিত হয়েছে।
চীন একমাত্র দেশ যা শক্তিশালীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। চীনের পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ট্যারিফ নীতি সাময়িকভাবে হ্রাস করে, ফলে বৃহৎ বাণিজ্য সংঘাতের ঝুঁকি কমে যায়। অবস্টফেল্ডের মতে, এই পারস্পরিক সমঝোতা একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য বিপর্যয়কে রোধ করেছে।
ট্যারিফের ধারাবাহিকতা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাঁচটি বাণিজ্য আলোচনার পরেও পূর্বের তুলনায় বেশি শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য বাধা বজায় রেখেছে। এই শুল্কের ফলে বহু ব্যবসার উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং বাজারের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যদিও বর্তমান পর্যন্ত অর্থনৈতিক কাঠামো কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে, তবে ট্যারিফ ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য বাধা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মুনাফা হ্রাস করতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানি‑নির্ভর শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে জটিলতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্যারিফের ধারাবাহিকতা এবং বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা ২০২৬ পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি ধীর করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যাওয়া এবং মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বাড়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্যারিফ নীতি যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান ও বেতন বৃদ্ধির দাবি করে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। চীনসহ কয়েকটি প্রধান অর্থনীতির সাথে চলমান ট্যারিফ বিরোধ ও সীমিত প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও জটিল করতে পারে। নীতিনির্ধারকদের জন্য জরুরি হল ট্যারিফের প্রভাবকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নীতি সমন্বয় করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।



