22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদন‘১২০ বাহাদুর’ চলচ্চিত্রে ১৯৬২ সালের রেজাং লা যুদ্ধের পুনরুজ্জীবন

‘১২০ বাহাদুর’ চলচ্চিত্রে ১৯৬২ সালের রেজাং লা যুদ্ধের পুনরুজ্জীবন

বোলিভুডের নতুন চলচ্চিত্র ‘১২০ বাহাদুর’ ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের এক অবহেলিত যুদ্ধে আলোকপাত করেছে। লাদাখের হিমালয়ী শৃঙ্গের রেজাং লা গেটকে রক্ষা করতে যেসব ভারতীয় সৈন্য বীরত্বের উদাহরণ দেখিয়েছেন, তাদের গল্পকে কেন্দ্র করে এই ছবি তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করিয়ে দেয়, যদিও বক্স অফিসে তা প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

ফারহান আখতার প্রধান চরিত্রে মেজর শৈতান সিং হিসেবে অভিনয় করেছেন, যা দর্শকদেরকে ঐ সময়ের কঠোর শর্তে সৈন্যদের সংগ্রাম অনুভব করিয়ে দেয়। ছবির নামের অর্থ ‘বাহাদুর’ – সাহসী হৃদয়, যা যুদ্ধের সময়ের আত্মত্যাগকে প্রতিফলিত করে। যদিও টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার নিচে নেমে যায়, চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে জনমতমুখে আনার ক্ষেত্রে সফল হয়েছে।

চলচ্চিত্রের সংলাপ লেখক উল্লেখ করেছেন, এই কাহিনীকে পুনরায় তুলে ধরা দেশের গৌরবের প্রতি সম্মান জানাতে অপরিহার্য। তিনি স্বীকার করেন, কিছু নাট্যিক স্বাধীনতা নেওয়া হয়েছে, তবে মূল বিষয়বস্তু ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ছবিটি দর্শকদেরকে রেজাং লা যুদ্ধের বাস্তবতা ও ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৯৬২ সালের যুদ্ধের পটভূমি ছিল দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের তীব্রতা, যা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়নি। তাছাড়া, চীন দালাই লামা ভারতীয় আশ্রয় গ্রহণের কারণে বিরক্ত ছিল, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে ২০ অক্টোবর চীন ভারতীয় সীমান্তে আক্রমণ চালায়, নিজেকে ‘স্ব-রক্ষার প্রতিক্রিয়া’ বলে দাবি করে।

চীনের আক্রমণের পর এক মাসের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলতে থাকে। চীন একতরফা সশস্ত্র বিরতি ঘোষণার মাধ্যমে সৈন্য প্রত্যাহার ও যুদ্ধবন্দী মুক্তি দেয়। তবে এই সময়ে ভারত প্রায় ৭,০০০ সৈন্য হারায় এবং প্রায় ৩৮,০০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি হারায়। যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে ৩,৪৪০ কিলোমিটার (প্রায় ২,১০০ মাইল) লম্বা ‘লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (LAC) গঠন করা হয়, যা নদী, হ্রদ ও হিমবাহের মাধ্যমে চিহ্নিত।

চীন এই যুদ্ধে তার দৃষ্টিকোণ থেকে খুব কমই মন্তব্য করেছে, মূলত তাদের সেনাবাহিনী সব ভারতীয় অবস্থান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা ছাড়া। রেজাং লা গেটের যুদ্ধের বিষয়ে চীনের কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুদ্ধটি এক ‘সিলভার লাইনিং’ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে ছোট সংখ্যক সৈন্যের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের গল্প বেঁচে আছে।

রেজাং লা গেটের যুদ্ধ ১৬,০০০ ফুট (প্রায় ৪,৯০০ মিটার) উচ্চতায় সংঘটিত হয়, যা শীতল হিমালয়ী পরিবেশে এক কঠিন লড়াই ছিল। যদিও সামগ্রিক যুদ্ধ চীনের পক্ষে শেষ হয়, এই একক যুদ্ধকে ভারতীয় ইতিহাসে ‘মহান শেষ প্রতিরোধ’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। এই যুদ্ধের বীরত্বের গল্প বই, নাটক ও চলচ্চিত্রে পুনরায় উপস্থাপিত হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে ঐতিহাসিক গৌরবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

‘১২০ বাহাদুর’ ছবির মাধ্যমে রেজাং লা গেটের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো আবারও জনমতমুখে এসেছে। যদিও বাণিজ্যিক সাফল্য সীমিত, তবে চলচ্চিত্রটি দেশের সামরিক ঐতিহ্য ও বীরত্বের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে এমন আরও প্রকল্পের মাধ্যমে অতীতের গৌরবময় কাহিনীকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments