বোর্নমাউথ এফসি টটেনহ্যাম হটস্পারকে ২-১ স্কোরে পরাজিত করে, অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর শেষ গেমে গোলের মাধ্যমে দলকে দীর্ঘ সময়ের গোলহীনতা থেকে বেরিয়ে এনেছে। ২৬ বছর বয়সে হলুদ কার্ড পাওয়ার পর সেমেনিওই ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তে গোল করে, যা তার ম্যানচেস্টার সিটিতে স্থানান্তরের আগে শেষ উপহার হিসেবে রেকর্ড হয়।
বোর্নমাউথের এই জয়টি ১১টি ধারাবাহিক অজয় ম্যাচের পর আসে, যখন দলটি প্রিমিয়ার লিগে দীর্ঘ সময় ধরে গোল না করতে পারার কষ্ট ভোগ করছিল। টটেনহ্যাম প্রথমার্ধে মাথে তেলকে গোল করে অগ্রগতি পায়, তবে পরবর্তীতে জোয়াও পালহিনহা সমান স্কোর করে দলকে সমান অবস্থানে নিয়ে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধে বোর্নমাউথের আক্রমণ দ্রুত গতি পায়। মারকাস টাভার্নিয়ের ডান দিক থেকে পাঠানো সুন্দর ক্রসের মাধ্যমে ইভানিলসন বক্সের মধ্যে ঝাঁপিয়ে গিয়ে হেডার দিয়ে প্রথম গোল করে, যা তার ৫০তম প্রিমিয়ার লিগ উপস্থিতি চিহ্নিত করে।
টাভার্নিয়ের আরেকটি ক্রস মারকোস সেনেসির কাছে পৌঁছায়, যিনি বলটি দূরের পোস্টের বাইরে থেকে মার্জিনে নিয়ে গিয়ে জুনিয়র ক্রুপিকে পাস করেন। ক্রুপি ঘনিষ্ঠ দূরত্ব থেকে বলটি গলে বোর্নমাউথের দ্বিতীয় গোল সম্পন্ন করে, ফলে স্কোর ২-১ হয়ে যায়।
টটেনহ্যামের গুলিয়েলমো ভিকারিও গলপোস্টের সামনে থাকা সেমেনিওর শটকে থামাতে ব্যর্থ হন, এবং বলটি নেটের মধ্যে দিয়ে যায়। এই গোলটি সেমেনিওর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি তার দলকে দীর্ঘ সময়ের গোলহীনতা থেকে মুক্তি দেয় এবং একই সঙ্গে তার প্রস্থানকে স্মরণীয় করে।
বোর্নমাউথের কোচ আন্দোনি ইরাওলা উল্লেখ করেন যে সেমেনিওকে বদলানো প্রায় অসম্ভব, এবং ১৯ বছর বয়সের এই তরুণ খেলোয়াড়ের প্রতিভা প্রতিটি ম্যাচে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইরাওলা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন, তবে সেমেনিওর প্রস্থান পরবর্তী মৌসুমে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যায়।
সেমেনিও এই মৌসুমে মোট সাতটি গোলের মালিক, যা তাকে ইউরোপের বড় পাঁচ লিগের সর্বোচ্চ গোলকারী কিশোর খেলোয়াড় লামিন ইয়ামালের সঙ্গে সমান করে। তার এই পারফরম্যান্স বোর্নমাউথের জন্য একটি বড় সাফল্য এবং তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
টটেনহ্যামের কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের দলও কঠিন সময় পার করছে; শেষ ১২ লিগ ম্যাচে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করেছে। টটেনহ্যাম এই ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরিধান করে, যা সম্ভবত কোনো স্মরণীয় ঘটনার প্রতি সম্মানসূচক।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, বোর্নমাউথের আক্রমণাত্মক শটের সংখ্যা টটেনহ্যামের তুলনায় বেশি ছিল, এবং গোলের সুযোগের ব্যবহারেও তারা বেশি কার্যকরী ছিল। টটেনহ্যাম যদিও প্রথমে অগ্রগতি পেয়েছিল, তবে রক্ষণাত্মক দুর্বলতা তাদেরকে পরাজয়ের মুখে ফেলে দেয়।
বোর্নমাউথের জয়টি দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন সঞ্চার দেয়, এবং পরবর্তী ম্যাচে তারা এই জয়কে ধারাবাহিকতা দিতে চায়। ম্যানচেস্টার সিটিতে সেমেনিওর স্থানান্তর নিশ্চিত হওয়ায়, বোর্নমাউথের আক্রমণাত্মক বিকল্পগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
টটেনহ্যামের জন্য এই পরাজয়টি একটি সতর্কতা, বিশেষ করে তাদের রক্ষণাত্মক গঠন ও গেম ম্যানেজমেন্টে। কোচ ফ্র্যাঙ্কের দলকে দ্রুত সমন্বয় করে পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, বোর্নমাউথের এই জয়টি দীর্ঘ সময়ের পর অবশেষে গোলের শৃঙ্খল ভাঙে, এবং সেমেনিওর শেষ মুহূর্তের গোলটি তার ক্যারিয়ারের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যায়। টটেনহ্যামকে এখনই তাদের দুর্বলতা ঠিক করে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।



