মাহমুদা আলম মিতু, জালকাঠি-১ আসনের এনসিপি প্রার্থী, তার স্বত্বপ্রমাণে দেখা গেছে যে তার চলমান সম্পদের মূল্য ৭৪ লক্ষ টাকার বেশি, তবে তিনি কোনো জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক নন। ৩৬ বছর বয়সী মিতু একজন চিকিৎসক এবং স্বত্বপ্রমাণে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ২০ ভোরি স্বর্ণের মালিক, যার মূল্য প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা, পাশাপাশি নগদে ২৮.৪ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫১ হাজার টাকা রাখেন।
মিতুর স্বামী, ডাঃ মো. মাহবুবুর রহমান, ও একইভাবে চিকিৎসক পেশায় আছেন এবং তার কোনো কৃষি বা অ-কৃষি জমি নেই। স্বত্বপ্রমাণে উভয়ের চলমান সম্পদের মোট মূল্য ১.২৭ কোটি টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে মিতুর সম্পদ ৭৪.৩১ লক্ষ টাকা এবং স্বামীর সম্পদ ৫৩.৪২ লক্ষ টাকা।
আয়কর সংক্রান্ত তথ্যেও পার্থক্য দেখা যায়। মিতু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোনো আয়কর পরিশোধ করেননি, কারণ তার বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকা, যা করযোগ্য সীমা ৩.৫ লক্ষ টাকার নিচে। অন্যদিকে স্বামী প্রতি বছর ৮.৪৯ লক্ষ টাকার আয় করে, যার ওপর তিনি ৩১,৪৫৭ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
মিতুর কর রিটার্নে তার নিট সম্পদ ২৮.৪ লক্ষ টাকা দেখানো হলেও স্বত্বপ্রমাণে তার সম্পদের মোট মূল্য ৭৪.৩১ লক্ষ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দুই তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নির্দেশ করে। স্বত্বপ্রমাণে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি কোনো অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত হননি এবং কোনো ঋণও নেই।
নির্বাচনী ব্যয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী মিতু তার নিজের আয় থেকে ৫ লক্ষ টাকা এবং স্বামীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি ছয়জন অ-সম্পর্কিত ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৯.৯ লক্ষ টাকা এবং ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আরও ৭.১ লক্ষ টাকা সংগ্রহের তথ্য স্বত্বপ্রমাণে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্বত্বপ্রমাণে দেখা সম্পদের পার্থক্য এবং কর রিটার্নের মধ্যে অসামঞ্জস্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন, এবং দাবি করছেন যে এই বিষয়গুলো ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনী তহবিলের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব পড়তে পারে।
মিতুর এই আর্থিক প্রকাশনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্য আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, এনসিপি-র প্রার্থী হিসেবে তার আর্থিক অবস্থার বিশদ বিবরণ পার্টির অভ্যন্তরে ও বাহ্যিকভাবে কিভাবে গ্রহণ করা হবে, তা আগামী সপ্তাহের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
অতিরিক্তভাবে, মৃত মুসাব্বীর, যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তার সম্পর্কে স্বত্বপ্রমাণে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তার সরাসরি সংযোগ মিতুর সম্পদ ঘোষণার সঙ্গে নেই। এই তথ্যটি স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, মিতুর স্বত্বপ্রমাণে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য ও নির্বাচনী ব্যয়ের পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন আলো নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে এই তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার ও পার্টি নেতারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



