জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে জামাত-ই-ইসলাম শাসনকর্তা ডিপি ও পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্টদের পদত্যাগ, সমান আচরণ এবং নির্বাচনী কোড লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। এই দাবি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে উত্থাপিত।
দলটি দাবি করেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার মঞ্চ এখনও সৃষ্ট হয়নি; কিছু দলকে অতিরিক্ত প্রচার সুবিধা ও সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে, আর জামাতের প্রার্থীরা নামপত্র যাচাই প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
নামপত্র যাচাইয়ের সময় উল্লেখযোগ্য বৈষম্য দেখা গেছে, বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে অসঙ্গতি প্রকাশ পেয়েছে। একই ধরনের মামলায় একখানে অনুমোদন, অন্যখানে প্রত্যাখ্যানের পার্থক্য দেখা গেছে।
শ্রদ্ধেয় জামাত নায়েব-এ-আমির সৈয়দ Abdullah Mohammad Taher এই বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেছেন, “যদি পরবর্তী নির্বাচন সঠিকভাবে আয়োজন না করা হয়, তবে দেশটি অস্তিত্বগত সংকটে পড়বে এবং বিপজ্জনক অবস্থায় সরে যাবে।” তিনি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই মন্তব্যগুলো দিলেন দলটির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকা নগরীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার AMM নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর। বৈঠকে দলটি শাসনকর্তা কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচনী কোড লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছে।
Taher বলেন, “নামপত্র যাচাই প্রক্রিয়ায় আমরা বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করেছি। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অসঙ্গতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বৈত নাগরিকত্বের মামলায় কিছু স্থানে অনুমোদন হয়েছে, অন্য স্থানে একই রকম মামলায় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।” তিনি এই অসঙ্গতি দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে উল্লেখ করেছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি থেকে ফেনি জেলার Abdul Awal Mintoo এবং সিলেটের Abdul Malekসহ প্রায় ১২-১৩ জনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে জামাতের কুড়িগ্রাম প্রার্থী Mahbub Salehin-এর নামপত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা দলটি নির্বাচন কমিশনকে তুলে ধরেছে।
Taher আরও উল্লেখ করেন, “আমরা এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনেছি এবং সমান আচরণ নিশ্চিত করার জন্য তৎপরতা চেয়েছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, একই দেশের দুইটি ভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনের ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আওয়ামী লীগ শাসনকালে তিনজন জামাত নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ শাস্তি আরোপের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুইজনের নামপত্র অনুমোদিত হলেও জামাতের প্রার্থী AHM Hamidur Rahman Azad-এর নামপত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই ঘটনাটি দলটির জন্য অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলটি দাবি করছে যে, শাসনকর্তা কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তাই, সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং কোড লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলাকালীন এই দাবিগুলো রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শাসনকর্তা কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি এবং সমান আচরণের দাবি উভয়ই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপস্থাপিত হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই অভিযোগগুলো মোকাবেলা করবে এবং শাসনকর্তা কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি পূরণ হবে কিনা, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের বৈধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



