গিলেরমো দেল টোরো, নেটফ্লিক্সের ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ সিরিজের পুরস্কার‑সিজন প্রচারাভিযানে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও, উটাহের শেষ স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে ফিরে আসছেন। তিনি ১৯৯৪ সালে স্যান্ড্যান্সে প্রথমবার প্রদর্শিত নিজের ডেবিউ চলচ্চিত্র ‘ক্রোনোস’‑এর পুনরুদ্ধারিত ৪কে সংস্করণে উপস্থিত হবেন। এই বিশেষ প্রদর্শনীটি ২৭ জানুয়ারি রে থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেল টোরোর সঙ্গে দীর্ঘ প্রশ্ন‑উত্তর সেশনও থাকবে।
‘ক্রোনোস’ ১৯৯৪ সালের স্যান্ড্যান্সে প্রথমবারের মতো স্ক্রিনে আসার পর দেল টোরোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভিত্তি স্থাপন করে। এখন, পার্ক সিটি লেগেসি প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এই চলচ্চিত্রটি পুনরায় সাজিয়ে দেখানো হবে, যা উটাহের শেষ স্যান্ড্যান্সের পর কলোরাডোর বোল্ডারে স্থানান্তরের পূর্বে আয়োজন করা হচ্ছে। লেগেসি প্রোগ্রামটি উৎসবের দ্বিতীয়ার্ধে, ২৭‑৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত, অতীতের স্মরণীয় শিরোনামগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য রাখে।
দেল টোরোর ‘ক্রোনোস’ পুনরায় ৪কে রেজোলিউশনে উপস্থাপন করবে জ্যানাস ফিল্মসের নতুন রেস্টোরেশন টিম। রেস্টোরেশন কাজের ফলে ছবির রঙ, শোরগোল এবং দৃশ্যের বিশদতা মূল রূপের কাছাকাছি আনা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। স্ক্রিনিংয়ের পরে দেল টোরো এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত কিছু মূল কাস্ট সদস্য প্রশ্ন‑উত্তর সেশনে অংশ নেবেন, যেখানে দর্শকরা সরাসরি নির্মাতা ও অভিনেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
‘ক্রোনোস’ দেল টোরোর নিজস্ব রচনা ও পরিচালনা, এবং এতে রন পার্লম্যান, ফেডেরিকো লুপি, তামারা শানাথ, মার্গারিটা ইসাবেল ও ক্লাউডিও ব্রুকের মতো নামকরা অভিনেতারা অভিনয় করেছেন। গল্পটি এক আলকেমিস্টের চারপাশে ঘোরে, যিনি এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেন যা ব্যবহারকারীকে অনন্ত জীবন দেবে। শতাব্দী পর, সেই আলকেমিস্টের আত্মা একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষে মারা যায়, আর এক অপ্রত্যাশিত অ্যান্টিক ডিলার ঐ যন্ত্রটি পেয়ে নিজের বয়স ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়, তবে চিরস্থায়ী জীবনের সঙ্গে ভয়াবহ পরিণতি যুক্ত থাকে।
চলচ্চিত্রের মূল থিম হল মানবের অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং তার ফলাফল, যা দেল টোরোর পরবর্তী কাজগুলোর মধ্যে পুনরাবৃত্তি পাওয়া যায়। ‘ক্রোনোস’ তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হওয়ায় দেল টোরোর শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলের প্রাথমিক রূপ প্রকাশ করে। এই পুনরুদ্ধারিত স্ক্রিনিংটি শুধু পুরনো ভক্তদের জন্য নয়, নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্যও দেল টোরোর কাজের মূল সত্তা উপলব্ধি করার সুযোগ দেবে।
পার্ক সিটি লেগেসি প্রোগ্রামটি এই সপ্তাহে আরও বেশ কয়েকটি ক্লাসিক চলচ্চিত্রের ডিজিটাল রেস্টোরেশন উপস্থাপন করবে। জোনাথন ডেটন ও ভ্যালেরি ফারিসের ‘লিটল মিস সানশাইন’, রেজিনাল্ড হাডলিনের ‘হাউস পার্টি’, রায়ান ফ্লেকের ‘হাফ নেলসন’, বারবারা কোপলের ‘আমেরিকান ড্রিম’ এবং গেগ আরাকির ‘মিস্টেরিয়াস স্কিন’ সবই নতুন ৪কে সংস্করণে প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও জেমস ওয়ানের হরর ক্লাসিক ‘স’র সাম্প্রতিক রেস্টোরেশনও প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
প্রতিটি শিরোনামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচালক ও নির্বাচিত কাস্ট সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা পার্ক সিটিতে এসে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন, যা উৎসবের নস্টালজিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এই ধরনের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য অতীতের চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপের সুযোগ তৈরি করে, যা সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
দেল টোরোর বর্তমান কাজ ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ সিরিজ, যা নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার‑সিজনে ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্বীকৃতি পেয়েছে। তার এই নতুন স্যান্ড্যান্স উপস্থিতি তার পুরনো কাজের প্রতি সম্মান ও বর্তমান প্রকল্পের প্রচারের মধ্যে একটি সেতু গড়ে তুলছে। উটাহের শেষ স্যান্ড্যান্সে দেল টোরোর অংশগ্রহণ চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
উটাহের শেষ স্যান্ড্যান্সের পর উৎসবটি কলোরাডোর বোল্ডারে স্থানান্তরিত হবে, যা নতুন ভৌগোলিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে আসবে। তবে এই শেষ অনুষ্ঠানটি পার্ক সিটি লেগেসি প্রোগ্রামের মাধ্যমে অতীতের স্মৃতি ও সৃজনশীলতা উদযাপন করার একটি অনন্য সুযোগ প্রদান করে। দেল টোরোর ‘ক্রোনোস’ পুনরুদ্ধারিত স্ক্রিনিং এই উদ্যোগের অন্যতম হাইলাইট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উৎসবের শেষ দিনগুলোতে দর্শকরা ক্লাসিক চলচ্চিত্রের পুনরায় রঙিন রূপে উপভোগের পাশাপাশি, নির্মাতাদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন‑উত্তর সেশনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনের গল্প জানার সুযোগ পাবেন। দেল টোরোর ‘ক্রোনোস’ স্ক্রিনিং এবং তার সঙ্গে যুক্ত প্রশ্ন‑উত্তর সেশনটি বিশেষভাবে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও শিল্পের ছাত্রদের জন্য আকর্ষণীয় হবে।
সারসংক্ষেপে, গিলেরমো দেল টোরোর উটাহের শেষ স্যান্ড্যান্সে উপস্থিতি, ‘ক্রোনোস’ রেস্টোরেশন এবং বিস্তৃত লেগেসি প্রোগ্রামটি চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলবে, এবং নতুন ও পুরনো দর্শকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।



