জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বৃহস্পতিবার রাত ১২ টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধ্যান শিক্ষক আনজুমানা আরা উর্মি ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মোট ১,২৪৭ ভোটার অংশগ্রহণ করেন এবং তিনটি প্যানেলে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, ইসলামী ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত “অদম্য জিবন ঐক্য” প্যানেল বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়লাভ করেছে, আর একমাত্র ছাত্রী হলের প্রতিনিধি হিসেবে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী নির্বাচিত হয়েছেন।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে “অদম্য জিবন ঐক্য” প্যানেলের মোশা জান্নাতুল উম্মি ৫৫০ ভোটে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, “ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জিবন” প্যানেলের ফারজানা আক্তার ২৩৬ ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফল দেখায় যে, ভোটারদের মধ্যে উম্মির নেতৃত্বের প্রতি ব্যাপক সমর্থন ছিল।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদেও “অদম্য জিবন ঐক্য” প্যানেল বিজয়ী রয়ে গেছে। সুমাইয়া তাবাসুম ৫৭১ ভোটে নির্বাচিত হন, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদিয়া সুলতানা একই প্যানেলের ২৩৬ ভোট পেয়েছেন। তাবাসুমের উচ্চ ভোটসংখ্যা তার প্রস্তাবিত কার্যক্রম এবং ছাত্রসংগঠনের প্রতি তার দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে রেদওয়ানা খাওলা ৫৪৫ ভোটে জয়লাভ করেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, “ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জিবন” প্যানেলের শেখ তাসলিমা জাহান ৪০৪ ভোট পেয়েছেন। রেদওয়ানার নির্বাচিত হওয়া প্যানেলের সমন্বিত প্রচারণা এবং তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ফলাফল হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়।
অন্যান্য সম্পাদকীয় পদেও “অদম্য জিবন ঐক্য” প্যানেল প্রভাব বিস্তার করেছে। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাদিয়া আফরোজ ৪৩৩ ভোটে নির্বাচিত হন, সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা ৩৪৬ ভোটে জয়ী হন, এবং একই সময়ে লাইব্রেরি সম্পাদক পদে ফাতেমা তুজ জোহরা ৫৩৯ ভোট পেয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে সাবিকুননাহার ৬৩৫ ভোটে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এই প্যানেলের ক্রীড়া কার্যক্রমের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে ফারজানা আক্তার ৪০৮ ভোটে নির্বাচিত হন, আর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক খাদিজা খাতুন ৪৮৬ ভোটে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই ফলাফলগুলো দেখায় যে, ছাত্রসংগঠনের সামাজিক ও পরিবেশগত দিকগুলোতে সমর্থন বাড়ছে।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সাবরিনা আক্তার ৬১৪ ভোট, নওশীন বিনতে আলম ৫৩৪ ভোট, মোশা সায়মা খাতুন ৫১৭ ভোট এবং লস্কর রুবাইয়াত জাহান ৪৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই সদস্যরা প্যানেলের বিভিন্ন কাজের তত্ত্বাবধান ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের একমাত্র ছাত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তার নির্বাচনের মাধ্যমে হলের প্রতিনিধিত্বে লিঙ্গ সমতা ও নারীর অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।
এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং ভোটের ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধ্যান শিক্ষকের উপস্থিতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনের শেষে সব প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন।
শিক্ষা সংক্রান্ত দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ফলাফলগুলো ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বকে তুলে ধরে। ভবিষ্যতে ছাত্রসংগঠনগুলোকে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও সমন্বিত কাজ করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ও সামাজিক উন্নয়ন সমানভাবে নিশ্চিত হয়।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: আপনার হল বা বিভাগের নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হলে, প্রার্থীর নীতি, কর্মপরিকল্পনা এবং পূর্বের কাজের মূল্যায়ন করে ভোট দিন। এছাড়া, নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন, যাতে আপনার মতামত ও প্রয়োজনীয়তা সময়মতো শোনা যায়।



