বাংলাদেশ রেলওয়ের ইলেক্ট্রিক লোকোমোটিভের তীব্র ঘাটতি চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা কামালাপুর ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (ICD) এর মধ্যে কন্টেইনার রেল পরিবহনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। এই ঘাটতি ব্যবসায়িক লজিস্টিকের সময়সীমা বাড়িয়ে তুলেছে এবং বন্দর ও গুদাম উভয়েরই চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাধারণত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ে প্রতি মাসে ১১২টির বেশি কন্টেইনার ট্রেন চলাচল করত। মার্চ‑এপ্রিল মাসে এই সংখ্যা শীর্ষে পৌঁছে প্রায় ১৪০টি ট্রেনের কাছাকাছি ছিল। তবে অক্টোবর মাসে ট্রেনের সংখ্যা ৮৪ে নেমে আসে, নভেম্বরের মধ্যে ৯৫টি এবং ডিসেম্বরের শেষে মাত্র ৭৪টি ট্রেন চালু হয়। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (CGPY) থেকে ঢাকা ICD পর্যন্ত প্রতিদিন মাত্র ৩৭টি ট্রেনই চলাচল করতে পারে, যা পূর্বের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অপারেশন ডিরেক্টর মো. ওমর ফারুকের মতে, গন্তব্যে প্রায় ২০০টি টুইন্টি‑ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট (TEU) কন্টেইনার সুষ্ঠুভাবে পৌঁছাতে প্রতিদিন কমপক্ষে চার জোড়া কন্টেইনার ট্রেন প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কামালাপুর ICD-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে নয় দিন সম্পূর্ণভাবে কোনো কন্টেইনার ট্রেন চালু হয়নি, কারণ রেলওয়ে পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাকি দিনগুলোতেও সেবা সীমিত ছিল; নয় দিন এক জোড়া ট্রেন, এগারো দিন দুই জোড়া ট্রেন এবং মাত্র দুই দিন তিন জোড়া ট্রেনই চলেছে। এই অনিয়মিত সেবা শিপমেন্টের সময়সূচি ভেঙে দেয় এবং বাণিজ্যিক লেনদেনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
বন্দরের কন্টেইনার সংরক্ষণ গুদামটির নকশা ক্ষমতা ৮৮৭ TEU, কিন্তু ডিসেম্বরের শেষের দিকে গুদামে জমা কন্টেইনারের সংখ্যা ১,৬৫৮ TEU-এ পৌঁছে, যা ক্ষমতার দ্বিগুণের কাছাকাছি। অতিরিক্ত সঞ্চয় গুদামের পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে এবং শিপমেন্টের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
এই ব্যাঘাতের ফলে আমদানি ব্যবসায়ীরা ডেলিভারির দেরি, অতিরিক্ত গুদাম ভাড়া এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার খরচের সম্মুখীন হচ্ছে। রেল পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো এখন সড়ক পরিবহনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছে, যা ট্রাফিক জ্যাম এবং পরিবহন খরচের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে, বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য কন্টেইনারের গতি কমে যাওয়া শিপমেন্টের টার্নওভার হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সাধারণত সুষ্ঠু রেল সেবা বজায় রাখতে মাসে ২০০টিরও বেশি ট্রেনের প্রয়োজন হয়। বর্তমান ঘাটতি এই লক্ষ্যমাত্রা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে, ফলে লজিস্টিক চেইনের পুরো কাঠামোতে চাপ বাড়ছে।
যদি লোকোমোটিভের সরবরাহ সমস্যাটি সমাধান না হয়, তবে চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা ICD-র মধ্যে কন্টেইনার ব্যাকলগ আরও বাড়তে পারে, শিপমেন্টের সময়সীমা দীর্ঘায়িত হবে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্যে প্রভাব পড়বে। সরকার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ, যেমন নতুন লোকোমোটিভের ক্রয় বা বিদ্যমান ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ বাড়ানো, এই সংকট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংক্ষেপে, লোকোমোটিভের ঘাটতি রেল ফ্রেটের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করেছে, যা বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি ধীর করে এবং অতিরিক্ত খরচের সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে রেল পরিবহনকে পুনরায় কার্যকর করতে অবিলম্বে সরঞ্জাম ও পরিচালনায় উন্নতি প্রয়োজন।



