জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ফলাফল বুধবার (৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে প্রকাশিত হয়। ভোটের শেষে ছাত্রশিবির সমর্থিত “অদম্য জবিয়ান ঐক্য” প্যানেলের ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম নির্বাচিত হয়ে তার পদ গ্রহণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিজয় বা পরাজয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী ঘটে। তিনি কোনো বড় শব্দ ব্যবহার না করে, এই বিষয়টি সরলভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্যকে প্রতিনিধিত্বের প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেন।
রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বয়সের তুলনায় যথেষ্ট পরিপক্ক এবং বুদ্ধিমান। তারা নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী প্রার্থীদের মূল্যায়ন করে ভোট দিয়েছে। ফলে, ভোটের ফলাফল স্বাভাবিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট ছাত্রদলকে সমর্থন করেছে, আবার অন্যরা তার প্যানেলকে পছন্দ করেছে। ভোটদানকারী ও না করা উভয়ের সিদ্ধান্তই তিনি সমানভাবে সম্মান করেন এবং শিক্ষার্থীদের রায়কে পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে জানান।
নির্বাচনের পর তিনি ঐক্য ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো ধরণের বিভাজন সৃষ্টি না করে সকলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। এ জন্য তিনি সকল প্যানেলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
রিয়াজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই অন্যান্য প্যানেলের ভাইদের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব ছিল এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতাকে অব্যাহত রাখতে চান। তিনি ঐক্যবদ্ধ কাজের মাধ্যমে ছাত্র সংসদের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখেন।
এই ঘোষণার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বায়ত্তশাসন ও স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কেবলমাত্র প্রতিনিধিত্বের একটি মাধ্যম, যা শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র মত প্রকাশের সুযোগ দেয়।
ভিপি রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং একে অপরের মতামতকে সম্মান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, একতা ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।
নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তিনি প্যানেলকে একটি স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন। এতে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান, একাডেমিক ও সামাজিক কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের পরামর্শ চান যে, তারা তাদের মতামত ও প্রস্তাবনা প্যানেলের সঙ্গে শেয়ার করে সমষ্টিগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সকলের অংশগ্রহণই সফলতার চাবিকাঠি।
এই ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করে এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মতবিনিময় করে। কোনো বিরোধ বা অশান্তি দেখা যায়নি।
শেষে রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ দেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুন, আপনার মতামত প্রকাশে দ্বিধা করবেন না এবং একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখুন। এইভাবে শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে আরও গঠনমূলক পরিবর্তন সম্ভব হবে।



