22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনপ্রতিভাবান সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক প্রীতিশ নন্দি মারা গেছেন, বয়স ৭৩

প্রতিভাবান সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক প্রীতিশ নন্দি মারা গেছেন, বয়স ৭৩

মুম্বাইতে ৭৩ বছর বয়সে প্রীতিশ নন্দি, যিনি সাংবাদিকতা, কবিতা, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র প্রযোজনার ক্ষেত্রে বিশাল ছাপ রেখে গেছেন, আজই নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিতকরণ তার পুত্র কুশান নন্দি, যিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা, স্ক্রিনকে জানিয়েছেন। মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।

নন্দি বহু দশক ধরে মিডিয়া জগতে সক্রিয় ছিলেন; তিনি কেবল একজন সফল সাংবাদিকই নন, বরং কবি, লেখক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত। তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্র, যা বিভিন্ন সময়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

প্রধান প্রযোজিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালের “কুচ খাট্টি কুচ মিঠি”, ২০০২ সালের “কাঁটে”, ২০০৩ সালের “ঝাঙ্কার বিটস”, একই বছর প্রকাশিত “চামেলি” এবং “হাজারো খোয়াশিন আঈসি”। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি “প্যাঁর কে সাইড ইফেক্টস” (২০০৬) এবং “শাদি কে সাইড ইফেক্টস” (২০১৪) সহ আরও কয়েকটি হিট ফিল্মের পেছনে ছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নন্দি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় ছিলেন; তিনি “ফোর মোর শটস প্লিজ” এবং “মডার্ন লাভ মুম্বাই” মতো ওয়েব সিরিজের উৎপাদনে অংশ নেন, যা তরুণ দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছে।

নন্দির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর শিল্প জগতে শোকের স্রোত বয়ে যায়। ভিনটেজ অভিনেতা অনুপম খের সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ শোকবাণী প্রকাশ করে নন্দির প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের কথা জানান।

খেরের পোস্টে তিনি নন্দিকে এক অসাধারণ কবি, লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাহসী সম্পাদক হিসেবে বর্ণনা করেন; তিনি মুম্বাইতে তার প্রথম দিনগুলোতে খেরের জন্য এক শক্তিশালী সমর্থন ও অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। খের উল্লেখ করেন, নন্দি ছিলেন এমন এক মানুষ, যার সঙ্গে ভাগ করা স্বপ্ন ও লক্ষ্যগুলোকে তিনি কখনোই ভয় পেতেন না।

খেরের শোকবাণীতে তিনি একটি স্মরণীয় মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন, যখন নন্দি তাকে ফিল্মফেয়ার কভারে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে “দ্য ইলাস্ট্রেটেড উইকলি” তে প্রকাশের সুযোগ দেন। এই ঘটনা তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা ও নন্দির শিল্পী হিসেবে প্রভাবকে তুলে ধরে।

অনুপম খের আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তারা বেশি দেখা না করলেও, একসময় তাদের বন্ধন অটুট ছিল; তিনি নন্দিকে “যারোদের বন্ধু” বলে প্রশংসা করেন এবং তার অনুপস্থিতি মিস করার কথা প্রকাশ করেন। তার পোস্টে “হৃদয় ভাঙা” হ্যাশট্যাগসহ শেষ করে তিনি নন্দির শান্তিপূর্ণ বিশ্রামের কামনা জানান।

প্রতিভাবান নন্দির মৃত্যু ভারতীয় সংস্কৃতি ও মিডিয়া ক্ষেত্রের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তার সৃষ্টিশীল কাজগুলো, বিশেষ করে তরুণ লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য তিনি যে মেন্টরশিপ প্রদান করেছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে।

নন্দি যে সময়ে নতুন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে নতুন গল্প বলার চেষ্টা করেছেন, তা তার অভিযোজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাবের প্রমাণ। তার কাজগুলো আজও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

কুশান নন্দি, যিনি নিজেও চলচ্চিত্র নির্মাতা, পিতার মৃত্যুর খবর জানিয়ে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবকে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নন্দির সৃষ্টিগুলোকে ভবিষ্যতে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রতিভা, সাহস ও মানবিকতা দিয়ে পূর্ণ প্রীতিশ নন্দির জীবন ও কাজের স্মৃতি আজও অনুপ্রেরণা জোগাবে, এবং তার অবদান বাংলা ও হিন্দি সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অম্লান থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments