18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাNCC ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাক্ষর করেছে টিএক ৫০০ কোটি স্টার্ট‑আপ রিফাইন্যান্স...

NCC ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাক্ষর করেছে টিএক ৫০০ কোটি স্টার্ট‑আপ রিফাইন্যান্স ফান্ডে অংশগ্রহণের চুক্তি

ঢাকা—NCC ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মতি জহিল, ঢাকা-র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দফতরে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে NCC ব্যাংক টিএক ৫০০ কোটি (পাঁচশো কোটি) স্টার্ট‑আপ রিফাইন্যান্স ফান্ডে অংশগ্রহণ করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের মূল উদ্দেশ্য হল প্রযুক্তি‑নির্ভর, উদ্ভাবনী এবং স্কেল‑যোগ্য স্টার্ট‑আপ উদ্যোগগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

ফান্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে গৃহীত, যার লক্ষ্য দেশের স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা এবং নতুন ব্যবসা মডেলকে ত্বরান্বিত করা। রিফাইন্যান্স ফান্ডের অর্থ NCC ব্যাংকের মাধ্যমে যোগ্য উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ রূপে পৌঁছাবে। ফলে, উচ্চ প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সহজলভ্য হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় NCC ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম শামসুল আরেফিন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মুস্তাফা দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। দুজনের স্বাক্ষরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দফতরে উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্বাগত জানিয়েছেন। স্বাক্ষরের প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ‑গভর্নর নুরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

বিএবির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হুসনে আরা শিখা, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ হাবিবুর রহমান এবং NCC ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস‑প্রেসিডেন্ট ও এসএমই বিভাগ প্রধান শারিফ মোহাম্মদ মাহসিনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন, যা চুক্তির গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

চুক্তি অনুসারে NCC ব্যাংক রিফাইন্যান্স ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করে স্টার্ট‑আপ উদ্যোক্তাদেরকে ঋণ প্রদান করবে। ঋণের শর্তাবলী এবং পরিমাণ ফান্ডের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ব্যাংকটি বিশেষভাবে প্রযুক্তি‑ভিত্তিক সেবা, ই‑কমার্স, ফিনটেক এবং স্বাস্থ্য‑প্রযুক্তি ক্ষেত্রের উদ্যোগগুলোকে লক্ষ্য করবে।

বিএবির উপ‑গভর্নর নুরুন নাহার অনুষ্ঠানে ফান্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই উদ্যোগ দেশের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রিফাইন্যান্স ফান্ডের মাধ্যমে আর্থিক প্রবেশাধিকারের বাধা কমে যাবে এবং নতুন ব্যবসা গড়ে তোলার পরিবেশ উন্নত হবে। এই বক্তব্যের পর তিনি স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

NCC ব্যাংকের শারিফ মোহাম্মদ মাহসিন উল্লেখ করেন, ব্যাংকটি এখন পর্যন্ত এসএমই সেক্টরে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং স্টার্ট‑আপ সেক্টরে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, রিফাইন্যান্স ফান্ডের মাধ্যমে ব্যাংকটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু উচ্চ সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোকে সমর্থন করতে পারবে। এতে ব্যাংকের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যপূর্ণ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী লাভজনকতা বাড়বে।

চুক্তির ফলে দেশের স্টার্ট‑আপ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। এছাড়া, ফান্ডের তহবিল ব্যবহার করে ব্যাংকটি দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং তহবিল বিতরণে সক্ষম হবে। এই সুবিধা বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা প্রাথমিক পর্যায়ে মূলধনের অভাবে বাধাপ্রাপ্ত হন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের রিফাইন্যান্স ফান্ড দেশের আর্থিক খাতের গভীরতা বাড়াবে এবং বিনিয়োগের প্রবাহকে ত্বরান্বিত করবে। তবে তারা সতর্ক করেন, স্টার্ট‑আপ সেক্টরে উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এবং যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ছাড়া ঋণ ডিফল্টের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই, ফান্ডের ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা জরুরি।

নিহত মুসাব্বীর, যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সমর্থন জানিয়েছেন। তার উপস্থিতি সমাজিক দায়িত্ববোধ এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতির উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠীর ভূমিকা তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, স্টার্ট‑আপ সেক্টরে বিনিয়োগ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এই চুক্তি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাংক এবং আর্থিক সংস্থা রিফাইন্যান্স ফান্ডে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে। শেষ পর্যন্ত, এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে ফান্ডের সঠিক ব্যবহার, ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসায়িক মডেল এবং বাজারের চাহিদার উপর।

সারসংক্ষেপে, NCC ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এই চুক্তি টিএক ৫০০ কোটি মূলধন দিয়ে দেশের প্রযুক্তি‑নির্ভর স্টার্ট‑আপগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। ফান্ডের মাধ্যমে ঋণ প্রদান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের চাহিদা মেটাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা করা হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments