শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ৭ জানুয়ারি বুধবার সকাল দশটায় শীতের তীব্রতা মোকাবিলার জন্য কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নড়িয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্থানীয় দরিদ্র ও শীতার্ত পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে এই মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি নড়িয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের চত্বরে আয়োজন করা হয় এবং বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষকে সরাসরি উপকৃত করা হয়।
প্রেসক্লাবের সদস্যরা জানান, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে গৃহহীন ও দরিদ্র গোষ্ঠীর কষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে; তাই এই উদ্যোগটি তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। কম্বলগুলো স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের তত্ত্বাবধানে বিতরণ করা হয়, যাতে প্রত্যেক প্রাপ্য ব্যক্তি যথাযথভাবে সেবা পায়।
অনুষ্ঠানে নড়িয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব লাকি দাস উপস্থিত ছিলেন। তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে, সমাজের ধনী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সংস্থার সমর্থন পেলে শীতজনিত দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের পর উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবকরা কম্বলগুলোকে গৃহবন্দি ও দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেন।
নড়িয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্যরা উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে উদ্ভূত এবং ভবিষ্যতেও এধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে আরও বেশি দরিদ্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করার লক্ষ্য রাখছেন।
শীতের মৌসুমে এ ধরনের সরাসরি সহায়তা স্থানীয় জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সান্ত্বনা প্রদান করে। কম্বল বিতরণে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলো তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি প্রত্যাশা করে এবং শীতের কষ্ট থেকে সাময়িক মুক্তি পায়। স্থানীয় নেতারা এই ধরনের উদ্যোগকে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহায়তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে একতা ও সমবায়ের অনুভূতি স্পষ্ট হয়। স্বেচ্ছাসেবকরা ভবিষ্যতে শীতের আগমনের আগে আরও পরিকল্পনা করে, অতিরিক্ত কম্বল সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনও এই ধরনের মানবিক কাজকে সমর্থন করে, যাতে দরিদ্র গোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
শীতের কঠিন সময়ে নড়িয়া উপজেলায় এই উদ্যোগটি স্থানীয় সমাজের মানবিক দায়িত্ববোধের প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। কম্বল বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে তাপের সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে, যা শীতের প্রভাব কমাতে সহায়ক। স্থানীয় সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকরা একত্রে কাজ করে, সামাজিক নিরাপত্তা জালকে শক্তিশালী করার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।
এই ধরনের মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে, স্থানীয় প্রশাসন, প্রেসক্লাব এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, দরিদ্র ও শীতার্ত গোষ্ঠীর জন্য ত্বরিত সহায়তা প্রদান করা জরুরি। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা ও সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে, নড়িয়া উপজেলায় শীতের কষ্ট কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।



