মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। রুবিও এই মন্তব্য একটি গোপনীয় ব্রিফিংয়ের পরে সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ পুনরায় আলোচনার সূচনায় এসেছে।
হোয়াইট হাউসের পূর্ববর্তী বিবৃতি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অর্জনের সম্ভাব্য উপায়, যার মধ্যে সামরিক জোরের কথাও অন্তর্ভুক্ত, নিয়ে আলোচনা করছেন। এই মন্তব্যটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলায় একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপের পর প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে, আর ডেনমার্কের পক্ষ থেকে কোনো আক্রমণ ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে। রুবিও উল্লেখ করেন, যদি প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি চিহ্নিত করেন, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প রাখতে পারেন, তবে কূটনৈতিক উপায়কে অগ্রাধিকার দেন। তিনি ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার উদাহরণও তুলে ধরেন।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোত রুবিওয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণের সম্ভাবনা বাদ দিয়েছেন। বারোত এই বিষয়টি নিয়ে তার জার্মানি ও পোল্যান্ডের সমকক্ষদের সঙ্গে পরবর্তীতে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় দেশগুলোর একটি দল, যার মধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং ডেনমার্ক অন্তর্ভুক্ত, একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ডেনমার্কের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার শুধুমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণই নির্ধারণ করতে পারে।
এই বিবৃতিতে আর্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ, সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের সংবিধানের নীতি—সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সীমানার অখণ্ডতা—রক্ষা করার গুরুত্বেও জোর দেওয়া হয়েছে।
ডেনমার্কের সঙ্গে রুবিওর আলোচনার সময়সূচি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত, যা গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দল এই আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত মূল্য এবং ন্যাটো জোটের সংহতি বজায় রাখার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে বলে আশা করা যায়।
অধিকন্তু, ইউরোপীয় দেশগুলো আর্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে, এবং ন্যাটোর মাধ্যমে সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের মান বজায় রাখা ভবিষ্যৎ আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রুবিও এবং ডেনমার্কের মধ্যে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনাটি গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন, ন্যাটো জোটের সংহতি এবং আর্টিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান খুঁজবে। এই আলোচনার ফলাফল অঞ্চলীয় ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



