মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের পর তেল বাজারে তীব্র পতন দেখা গেল। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলা সাময়িক কর্তৃপক্ষ ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের, নিষেধাজ্ঞা সাপেক্ষ তেল যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখে জানান, তেলটি বাজারমূল্যে বিক্রি হবে এবং বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ তার তত্ত্বাবধানে থাকবে, যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উপকারে আসে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান দুই তেল চুক্তির দাম হ্রাস পায়, যা গতকাল থেকেই নিচের দিকে গমনশীল ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট বুধবার জানিয়ে দেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয়ের নিয়ন্ত্রণ অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের এই অস্থায়ী ব্যবস্থা দেশের সীমিত সংরক্ষণ ক্ষমতার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে, ফলে সরবরাহের উদ্বেগ কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে তারা সতর্ক করেন, বাজারে তেলের অতিরিক্ত মজুদ এবং ওপেক+ এর উৎপাদন বৃদ্ধি পরিকল্পনা তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রাখবে।
বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল সংরক্ষণ ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত, তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে দেশের পুরনো অবকাঠামো, নিম্ন দামের চাপ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলি তেলের দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উত্তর আটলান্টিকের একটি রাশিয়ান পতাকাযুক্ত তেল ট্যাঙ্কারকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত করে, যা তেলের দামে সাময়িকভাবে উত্থান ঘটায়, তবে পরে আবার পতন ঘটে। একই সময়ে ক্যারিবিয়ানে আরেকটি ট্যাঙ্কারও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই দুইটি ধরা পড়া জাহাজের ঘটনা তেল বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।
শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স সূচক মঙ্গলবার রেকর্ড উচ্চ স্তর থেকে সামান্য উপরে উঠে, তবে ট্রেডিং সেশনের পরে আবার নিচের দিকে সরে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল দামের এই ওঠা-নামা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা তেল সংক্রান্ত নীতি শেয়ারবাজারের সামগ্রিক মনোভাবকে প্রভাবিত করছে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের তেল হস্তান্তরের ঘোষণা তেল দামের হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে, একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়েছে। তবে ওপেক+ এর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারে তেলের অতিরিক্ত মজুদ ভবিষ্যতে দামের নিম্নগামী প্রবণতা বজায় রাখবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল বিক্রয়ের নিয়ন্ত্রণের সময়সীমা অনির্দিষ্ট থাকায়, ভেনেজুয়েলার তেল নীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিকশিত হবে তা নজরে থাকবে।



