ঢাকা মেট্রোপলিটন সীনিয়র স্পেশাল জাজের আদালত আজ ফয়সাল করিম মাসুদ, তার স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া এবং তার স্বার্থে যুক্ত দুই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেয়। জব্দকৃত মোট টাকা ৬৫.৫ লাখ টাকার সমান।
ফয়সাল করিম মাসুদকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শারিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাদি ১২ ডিসেম্বর পল্টন এলাকায় গুলি হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার সময় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী ও জুলাই উত্থানের সময় সক্রিয় যুব নেতা ছিলেন।
এই জব্দের আদেশ বিশেষ জাজ মোঃ সাব্বির ফয়েজের স্বাক্ষরে জারি করা হয়। আদেশটি ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) কর্তৃক দাখিল করা এক আবেদনপত্রের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেনের মতে, সিআইডি ফয়সাল ও তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সিআইডি অনুসারে, ফয়সাল ও তার স্বার্থে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণে অসংখ্য সন্দেহজনক আর্থিক কার্যকলাপ প্রকাশ পেয়েছে। এই লেনদেনগুলোতে বড় পরিমাণে নগদ প্রবাহ এবং অস্বাভাবিক ট্রান্সফার প্যাটার্ন দেখা যায়, যা অর্থপাচার ও অবৈধ তহবিলের ব্যবহার নির্দেশ করে।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যগুলো ফয়সাল ও তার সহযোগীদেরকে হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়ন এবং সংগঠিত অপরাধে যুক্ত বলে ইঙ্গিত করে। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো জব্দ করে, তহবিল রাষ্ট্রের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়।
হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের প্রকৃতি ও পরিসর স্পষ্ট করতে অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। সিআইডি এখনো এই আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফয়সাল ও তার স্বামী-স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি, দুইটি প্রতিষ্ঠান ও দুইজন ব্যক্তির হিসাবও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে। এসব হিসাবের মোট ব্যালেন্স একত্রে ৬৫.৫ লাখ টাকা, যা আদালত এখন রাষ্ট্রের তহবিলে স্থানান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে।
হাদির পরিবার ও রাজনৈতিক সমর্থকরা এই মামলায় ন্যায়বিচার দাবি করে আসছেন। হাদির মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবারকে বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা ও সমর্থন প্রদান করা হয়েছে, তবে হত্যাকারী ও সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান অব্যাহত রয়েছে।
এই মামলায় সিআইডি ও আদালত উভয়ই তদন্তের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিকন্তু, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস ডিপার্টমেন্ট (আইএসপিআর) জানিয়েছে যে, দেশটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তথ্যটি হাদি হত্যার মামলায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে না, তবে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য।
মামলাটি এখন আদালতে পরবর্তী শুনানির জন্য প্রস্তুত। ফয়সাল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আর্থিক জব্দের পাশাপাশি, হাদির হত্যার জন্য অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রমাণের জন্য অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
অবশেষে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি জোর দিয়ে বলেছে যে, কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সংগঠিত অপরাধ বা অর্থপাচারকে সহ্য করা হবে না এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এই নীতি অনুসরণ করে, দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সকল স্তরে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



