20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনিখোঁজ এনসিপি সদস্য ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার

নিখোঁজ এনসিপি সদস্য ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার

ঢাকার এনসিপি সদস্য ওয়াসিম আহমেদ মুকছান (৪০) ৪ জানুয়ারি রাত ৫টার দিকে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। তার স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পা কদমতলী থানায় অভিযোগ দাখিলের পর, পুলিশ ৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে ওয়াসিমকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার হেফাজত তার স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শারমিন টুম্পা অভিযোগ করেন যে, নিদ্রা ভোরে তার স্বামীকে পাঁচ থেকে ছয়জন অপরিচিত ব্যক্তি নিয়ে গিয়ে কদমতলী থানার রাজাবাড়ী আলী বহর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি কদমতলী থানা-ইয়াতে একটি সাধারণ ডায়েরি দাখিল করেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা তার বাবা-মা ও ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেন।

থানা পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাটি তদন্তে নেয় এবং ভিক্টিমের পরিবারকে জানায় যে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে জানা যায় যে, ওয়াসিমের পরিবার থেকে আলাদা একটি ভাড়া বাসায় তিনি এবং তার স্ত্রী থাকতেন। মাদকাসক্তির কারণে পরিবারের সম্মতিতে ওয়াসিমের ছোট ভাই রাকিব, শারমিনের অজ্ঞাতসারে ঘটনার দিন তাকে স্থানীয় একটি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

অনুসন্ধানকারী দল জানায়, মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে ভোরের সময় রোগী ভর্তি করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়; তাই অপরাধীরা এই সময়টিকে সুবিধাজনক হিসেবে বেছে নিয়েছিল। ওয়াসিমকে কেন্দ্র থেকে বের করে নেওয়ার সময় যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে থাকে, তবে তা তদন্তে নিশ্চিত করা যায়নি।

উদ্ধারের পর, শারমিনের আবেদন অনুযায়ী ওয়াসিমকে তার স্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় ওয়াসিমের পরিবারিক সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি বাধা বা অতিরিক্ত জটিলতা দেখা যায়নি।

পুলিশের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর, শারমিন টুম্পা স্ট্রিমের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠিয়ে তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে চেয়েছিলেন, তবে এখনো কোনো উত্তর পাননি।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের স্বাক্ষরে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াসিমের নিখোঁজ হওয়ার সময় তার মাদকাসক্তি এবং পরিবারিক সমঝোতা মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া, পুলিশ তার হেফাজত শারমিনের হাতে হস্তান্তর করার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো আপডেট দেয়নি।

এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, ওয়াসিমকে নিয়ে গিয়ে যদি কেউ পুলিশি পরিচয় ব্যবহার করে থাকে, তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন।

অধিকন্তু, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও রোগী ভর্তি প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে, ভোরের সময়ে রোগী ভর্তি সহজ হওয়া একটি দুর্বল দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

এই ঘটনার পর, শারমিন টুম্পা পরিবারিক সমর্থন ও আইনি সহায়তা চেয়ে আছেন। তিনি মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, ওয়াসিমের নিখোঁজ হওয়া, মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার, এবং হেফাজত হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি আরও আলোচনার বিষয় হবে।

এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments