কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সরকার গঠনকে পুলিশ বা প্রশাসনের দায়িত্ব হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংস্থাগুলোর মূল কাজ হল জনগণকে নিরাপদে ও নির্ভয়ে ভোট দিতে সক্ষম পরিবেশ তৈরি করা।
বৈঠকের অংশ হিসেবে আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। এই প্রেক্ষাপটে হাসনাতের মন্তব্য বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কারণ তিনি সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন।
হাসনাত বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে তাদের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট হতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, যদি এই সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে না করে, তবে বেনজি ও হারুনের মতো ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু অপরাধীকে মিডিয়ায় সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তারা সমাজের অংশ এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো দরকার। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলছেন, এমন নীতি ও রূপকথা যা নির্দোষ মানুষকে হুমকির মুখে ফেলে, তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
হাসনাতের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ দুইটি মূল দিকের মধ্যে বিভক্ত। একদিকে কিছু গোষ্ঠী বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা হ্রাসের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে অন্য গোষ্ঠী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও স্বনির্ভরতা বজায় রাখতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের শাসন ও সরকার গঠন নির্ধারণের অধিকার কেবল বাংলাদেশের নাগরিকদেরই আছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের তাবেদারি এবং বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা নিয়ে চলমান বিতর্কে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনো স্থান নেই এবং জাতীয় স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা জরুরি।
হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, অতীতের কিছু রাজনৈতিক নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এক ধরনের উপনিবেশিক অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা প্রায় এক দশক ও অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে। তিনি এই ধরনের প্রথা অব্যাহত না রাখার আহ্বান জানান এবং দেশের স্বনির্ভরতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য এনসিপি নেতৃবৃন্দও একই সুরে কথা বলেন। তারা সরকারকে আহ্বান করেন, যেন নিরাপত্তা বাহিনী জনগণের অধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজ করে। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি রাখেন।
হাসনাতের মন্তব্যের পর, উপস্থিত কিছু অংশগ্রহণকারী তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ শেয়ার করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, ভোটের সময় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই বৈঠকের পর, স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে হাসনাতের বক্তব্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তার মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যেখানে নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমন্বয় করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যদি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে, তবে ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করার ঝুঁকি বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে।
অবশেষে, হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রে কাজ করতে হবে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ জাতি গড়ে তুলবে।



