ঢাকা শহরের কারওয়ান বাজারের রান্নাঘর বাজারে আজ সন্ধ্যায় শত শত ব্যবসায়ী ও কর্মী তাদের দোকান বন্ধ করে এক প্রধান সড়ক অবরোধ করে। তারা জবরদস্তি বন্ধের দাবি জানিয়ে শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচল থামিয়ে দেয়।
অবস্থানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি অবরোধের ফলে শহরের বিভিন্ন অংশে ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়, গাড়ি চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় গিয়ে স্লোগান শোনায় এবং জবরদস্তি বিরোধী মন্ত্রোচ্চারণ করে।
বাজারের কর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রেলি গঠন করে অগ্রসর হয়। রেলির পথে তারা চিৎকার করে জবরদস্তি বিরোধে তাদের দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে, পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার দাবি তুলে ধরে।
বাজারিক শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী ডি.আই.টি. মার্কেট ট্রেডারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সেক্রেটারি ও বিএনপি ওয়ার্ড-২৬ ইউনিটের সাধারণ সেক্রেটারি বেলাল হোসেন উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশ ও জবরদস্তি-মুক্ত বাজারের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। তিনি বলেন, পূর্বে জবরদস্তি গোষ্ঠী ব্যবসায়ীদের মানব শৃঙ্খল গঠনের সময় হুমকি দিয়েছে, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এই প্রতিবাদটি ২৯ ডিসেম্বরের একটি সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে। সেই দিন একদল লাঠি ধরি গোষ্ঠী মানব শৃঙ্খল গঠনকারী ব্যবসায়ীদের ওপর আক্রমণ করে, ফলে কয়েকজন আহত হন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তাড়া-ধাওয়া হয়।
বাজারিক শ্রমিকরা তেজগাঁও ইউনিটের জুবো দালের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আবদুর রহমান ও স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের এই হামলার দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা দাবি করে, এই গোষ্ঠী জবরদস্তি চালিয়ে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেছে।
আবদুর রহমান এই অভিযোগের কঠোর প্রত্যাখ্যান করেন এবং জবরদস্তি বা সহিংসতার সঙ্গে তার কোনো সংযোগ নেই বলে জানান। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনগত পথে পরিষ্কার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাজারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের পটভূমি উল্লেখযোগ্য। ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা রান্নাঘর বাজারের কমিটি ত্যাগ করে, ফলে একটি উপকমিটি গঠন করা হয় এবং আবদুর রহমানকে প্রধান দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়।
আজকের প্রতিবাদটি মূলত আবদুর রহমানের বাজারে ফিরে এসে পুনরায় কমিটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পর উদ্ভূত হয়েছে। তার এই পদক্ষেপকে ব্যবসায়ীরা জবরদস্তি পুনরায় চালু করার সংকেত হিসেবে দেখেছে, ফলে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অবরোধের সময় গৃহীত আইনগত ব্যবস্থা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। পুলিশ জানায়, প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সংগ্রহের কাজ চলছে, এবং প্রয়োজনীয় হলে আদালতে মামলার শোনার ব্যবস্থা করা হবে।
শহরের ট্রাফিক বিভাগও অবরোধের ফলে সৃষ্ট জ্যাম কমাতে বিকল্প রুট নির্দেশ করে এবং গাড়ি চালকদের সতর্কতা জানায়। তবে রাস্তায় গাড়ি চলাচল সীমিত হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ক্ষতি হয়েছে, যা বাজারিক শ্রমিকদের আরেকটি উদ্বেগের বিষয়।
প্রতিবাদকারীরা জবরদস্তি মুক্ত পরিবেশের দাবি পুনরায় জোর দিয়ে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। বর্তমান পরিস্থিতি নজরে রেখে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হবে তা সময়ের সাথে প্রকাশ পাবে।



