সরকারের নতুন উদ্যোগে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন লক্ষ্য করে স্বাস্থ্য সেবার পরিধি বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলোতে সরাসরি প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি পরামর্শ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি রূপরেখা প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠিয়েছে। রূপরেখাটি ১৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে প্রস্তাবিত হয়েছিল, যেখানে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মানোন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপের উল্লেখ ছিল।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ রূপরেখা অনুমোদন করলে, তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু হবে। বিদ্যমান কৃমিনাশক ট্যাবলেট, ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকবে, তদুপরি প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নত মানের ফার্স্ট এইড বক্স, ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র, রক্তচাপ মাপার মেশিন এবং রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার যন্ত্র সরবরাহ করা হবে। এসব সরঞ্জাম শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত ট্র্যাকিং এবং প্রয়োজনীয় সময়ে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা প্রদানকে সহজ করবে।
পুষ্টি শিক্ষার অংশ হিসেবে, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের বয়স ও ওজন অনুযায়ী সুষম খাবারের তালিকা সম্বলিত পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হবে। এই উপকরণগুলো শিশুরা কীভাবে সঠিক খাবার নির্বাচন করতে পারে তা সহজভাবে ব্যাখ্যা করবে, ফলে তাদের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
রূপরেখায় বিশেষভাবে মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে হরমোন সংক্রান্ত তথ্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং মানসিক সমর্থন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্যকর বিকাশে সহায়ক হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক গুরুতর রোগে আক্রান্ত হন, তবে সরকারী হাসপাতালগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিক বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। এই নীতি বিশেষভাবে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপসচিব রওশন আরা পলি উল্লেখ করেছেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অপরিহার্য। নিরাপদ পানীয় জল, উন্নত স্যানিটেশন এবং পুষ্টি শিক্ষার মাধ্যমে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এই স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে, সরকার আশা করছে যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে স্থিতিশীল এবং শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হবে। শেষ পর্যন্ত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সমন্বিত উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার বিদ্যালয়ে এই নতুন স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা কেমন প্রভাব ফেলবে? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা নিন।



