20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলাদেশি যুবক গরু ব্যবসা সন্দেহে ভারতীয় পুলিশ আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলাদেশি যুবক গরু ব্যবসা সন্দেহে ভারতীয় পুলিশ আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে মঙ্গলবার সকালবেলা দুইজন বাংলাদেশি যুবককে ভারতীয় পুলিশ গরু ব্যবসা সংক্রান্ত সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী খাইরুল ইসলাম এবং ২৫ বছর বয়সী মমিন আলী অন্তর্ভুক্ত, যারা নারায়ণপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রাম থেকে আসা বলে জানা যায়। গ্রেফতারটি জঙ্গিপুর থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সীমানা বাহিনীর (বিএসএফ) সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়।

গ্রেফতারকৃতদের নাম, বয়স এবং ঠিকানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়েছে। খাইরুল ইসলাম এবং মমিন আলী দুজনেই দেবীপুর গ্রাম, নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তারা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালবেলা সীমান্তে গরু নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন, তবে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান গ্রেফতার সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, গরু ব্যবসা নিয়ে সীমান্তে গিয়ে চারজন লোককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, আরেকজন বর্তমানে ভারতের অংশে অবস্থান করছে এবং চতুর্থজন বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের গরু চোরাচালান সীমান্তে নিয়মিত ঘটে এবং দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রের মতে, গরু নিয়ে যাওয়ার জন্য চারজন রাখাল মঙ্গলবার সকালে সীমান্তে গিয়েছিলেন। তারা গরু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পারাপার করছিলেন, কিন্তু বিএসএফের সহায়তায় ভারতীয় পুলিশ খাইরুল ও মমিনকে আটক করে। অন্য দুইজনের মধ্যে একজন ভারতের কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আরেকজন সফলভাবে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিন গ্রেফতার সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, তিনি দুই যুবকের আটক সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছেন এবং জানেন যে তারা গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, গরু চোরাচালান সীমান্তে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এবং এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমানের বিবরণে স্পষ্ট হয়েছে, গরু নিয়ে সীমান্তে গিয়ে চারজন লোককে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে দুজনকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জানান, আটককৃত দুজনকে এখনো আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে গরু চোরাচালান ও সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে দুজনকে ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের হস্তান্তর বা বিচার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।

এই ঘটনার পর ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ উভয়ই সীমান্তে গরু চোরাচালান রোধে যৌথ অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া, গ্রেফতারকৃতদের আইনি প্রতিনিধিত্বের জন্য উভয় দেশের আইনজীবী সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে।

সীমান্তে গরু ব্যবসা সংক্রান্ত এই গ্রেফতার স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এ ধরনের অপরাধের ফলে কৃষক ও পশুপালকদের ক্ষতি হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি এবং তথ্য শেয়ারিং বাড়ানো হবে।

এই বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের জানানো হবে। গ্রেফতারকৃত দুজনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তারা কারাবাসে থাকবে, এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নির্ধারিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments