প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস আজ রায়েরবাজারে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সমাধিস্থ ১১৪ অচেনা দেহের ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত রিপোর্ট তার জামুনা বাসায় গ্রহণ করেন। তিনি পূর্বে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বারা গৃহীত নির্মম কাজকে বিশ্ব ইতিহাসে বিরল ও কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য অস্বীকারযোগ্য বলে সমালোচনা করেন।
ডিএনএ সংগ্রহের কাজ ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে, গৃহ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সহায়তায় সম্পন্ন হয়। এই সময়ে মোট ১১৪টি অচেনা দেহ থেকে নমুনা নেওয়া হয়, যা পরে সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) দ্বারা বিশ্লেষণ করা হয়।
সিআইডি আজকের দিনে প্রফেসর ইউনুসের বাসায় সরাসরি রিপোর্ট হস্তান্তর করে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিএনএ মিলের মাধ্যমে মৃতদেহের পরিচয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া সত্যকে চিরকাল দমন করা সম্ভব নয় বলে প্রমাণ করে। ইউনুস এই ফলাফলকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে, যা শোকাহত পরিবারগুলোর কাঁদা মুছে দিয়ে রাষ্ট্রের মানবিক দিক পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, মৃতদের নাম ও পরিচয় পুনরুদ্ধার করা কেবল ফরেনসিক কাজ নয়, বরং দেশের ইতিহাসে তাদের ত্যাগকে চিরস্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আরও যোগ করেন, “যারা এখনও প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য এই প্রক্রিয়া এক আলোর কিরণ, একদিন সত্য প্রকাশ পাবে।”
এ পর্যন্ত নয়টি পরিবার তাদের অনুপস্থিত আত্মীয়ের জন্য ডিএনএ নমুনা জমা দিয়েছে। জমা দেওয়া নমুনার মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় ডিএনএ মিলের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, শনাক্তকৃত শহীদদের মৃত্যুর কারণ গুলিবর্ষণ।
সিআইডি পরিবারগুলিকে আহ্বান জানিয়েছে যে, যারা জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় নিখোঁজ হয়েছেন, তারা ০১৩২০০১৯৯৯৯ নম্বর হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য প্রদান করুন। এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আরও শহীদদের পরিচয় প্রকাশের সম্ভাবনা বাড়বে।
এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের অতীতের অপরাধের দায়িত্বশীলদের মুখোমুখি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল হিসেবে দেখছেন। শহীদদের পরিচয় প্রকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বশেষে, ইউনুসের মন্তব্য ও ডিএনএ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া দেশের শোকময় পরিবারগুলোর জন্য এক নতুন আশা সৃষ্টি করেছে, এবং দেশের ইতিহাসে এই দুঃখজনক অধ্যায়কে সত্যের আলোতে তুলে ধরার পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



