নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় গত দুই দিনে দুইটি পৃথক সংঘর্ষে মোট ২৭ জন আহত হয়েছেন। প্রথমটি মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি এবং পরেরটি বুধবার ৭ জানুয়ারি ঘটেছে। উভয় ঘটনার স্থান চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা গ্রাম, মাইজপাড়া এলাকার কাচারী রোড, চিরাং রোড এবং নির্মাণাধীন সড়ক।
কেন্দুয়া থানা পুলিশ জানায়, চিরাং ইউনিয়নের একটি সরকারি হালট (ছোট রাস্তা) মেরামতের কাজ চলছিল। কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ইট, সুরকি ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী পার্শ্ববর্তী জমিতে রাখা হয়। এই সামগ্রী জমিতে রাখার বিষয়টি লতিফ মিয়া ও এখলাছ মিয়া সমন্বিত দুই গোষ্ঠীর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
লতিফ মিয়া ও এখলাছ মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টানা দিন টানা সংঘর্ষের ঝড় উঠতে থাকে। উভয় দলে দেশীয় কুচ, বল্লমসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রথম সংঘর্ষ মঙ্গলবারে দফা দফা ঘটায়, যার ফলে ১২ জন আহত হন। আহতদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
বুধবারের ঘটনা আরও তীব্রতর রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা ওই নির্মাণাধীন সড়কে চলার সময় এক পক্ষের দ্বারা বাধা দেওয়া হয়। কথোপকথন দ্রুত উত্তেজনায় রূপান্তরিত হয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি অস্ত্রধারী সংঘর্ষে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে অতিরিক্ত ১৫ জন আহত হন, যার মধ্যে মনির মিয়া বিশেষভাবে গুরুতর অবস্থায় ছিলেন।
মনির মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। অন্যান্য আহতদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। আহতদের মধ্যে দেশীয় কুচ ও বল্লম ব্যবহার করে আঘাতপ্রাপ্তদের সংখ্যা বেশী, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদি মাকসুদ জানান, বুধবারের সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে, তবে দুই দিনের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানা-এ অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো অভিযোগ দাখিল হয় তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে আরও প্রকাশ পায় যে, ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে সরকারি হালটের অংশ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে জীবন ভূঁইয়া ও চন্দন মিয়া পক্ষের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই প্রাথমিক বিরোধই পরবর্তীতে লতিফ মিয়া ও এখলাছ মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
সংঘর্ষের মূল কারণ হিসেবে জমি ব্যবহার, নির্মাণ সামগ্রীর সংরক্ষণ এবং সরকারি রোডের অংশগ্রহণের বিষয়গুলোকে উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে পূর্বে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বিষয়টি দ্রুতই হিংসাত্মক রূপ নেয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো দেশীয় কুচ, বল্লম এবং কিছু ক্ষেত্রে তলাবন্ধন (কাঁচা লোহার টুকরা) অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অবশেষে, কেন্দুয়া উপজেলায় ঘটিত এই দুই দিনের সংঘর্ষে মোট ২৭ জন আহত হলেও, এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ দাখিল হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।



