কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতের দিকে দুই যুবককে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাশিপুর বি.ও.পি.আই.র সদস্যদের নেতৃত্বে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত ঘেঁষা আজোয়াটারী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ভারতীয় সীমান্ত দিক থেকে প্রবেশের সন্দেহে দুই সন্দেহভাজনকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সন্দেহভাজনরা চ্যালেঞ্জের মুখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের হাতে হাতেনাতে আটক করে। পরে দেহ তল্লাশি করে ৮৭টি ভারতীয় উৎপাদিত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অটকরা হলেন ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারী গ্রাম থেকে উৎপল সেন (২৫ বছর) ও সাগর বর্মন (১৮ বছর)। উভয়কে তৎক্ষণাৎ ফুলবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়।
বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরণের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযান সীমান্তে মাদক পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অভিযানের সফলতা ও জব্দকৃত মাদকের পরিমাণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সমান ধরনের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম পিএসসি উল্লেখ করেন, “সীমান্তে মাদক প্রবাহ রোধে আমাদের ইউনিট সর্বদা সতর্ক এবং প্রস্তুত। যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আমরা ধারাবাহিকভাবে টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম তীব্র করছি।”
অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জোরালোভাবে বলেছে, জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়স বিবেচনা করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মামলাটি ফুলবাড়ী থানা থেকে জেলা আদালতে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সীমান্তে মাদক পাচার রোধে বিজিবি সম্প্রতি গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি দ্রুত সনাক্ত করে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
অধিকন্তু, বিজিবি কর্তৃক গৃহীত টহল পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে একই অঞ্চলে অতিরিক্ত টহল চালু করা হবে। এতে সীমান্ত পারাপারের সময় সন্দেহজনক গতি-প্রকৃতির উপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং মাদক পাচারকারীদের জন্য কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনার পর মাদক সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে মাদকদ্রব্যের ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সীমান্তে মাদক পাচার সংক্রান্ত ঝুঁকি পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং গোপন তথ্যের যথাযথ ব্যবহার ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য শাস্তি নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে, বিজিবি ও পুলিশ সংস্থার সমন্বিত কাজের মাধ্যমে সীমান্তে মাদক প্রবাহ কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



