ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে সরকার কর্তৃক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) পদে যেসব কর্মকর্তাকে দলীয় পরিচয়ভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে, তাদের প্রার্থিতা বাছাইয়ে বৈষম্য দেখা দিয়েছে বলে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এসব ‘দলীয় ডিসি’ ও ‘দলীয় এসপি’কে অপসারণের দাবি জানিয়ে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগের আহ্বান জানান।
বুধবার বিকালে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই) সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের সাংবাদিকদের জানালেন, প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, একই ধরনের দ্বৈত নাগরিকত্বের মামলায় কিছু এলাকায় মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, আবার অন্য এলাকায় একই প্রেক্ষাপটে তা বাতিল করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫১টি দল ও স্বতন্ত্র গোষ্ঠীর মোট আড়াই লক্ষেরও বেশি প্রার্থীর মধ্যে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭২৩ জন প্রার্থী বাছাই থেকে বাদ পড়েছেন, যার বেশিরভাগই স্বতন্ত্র, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। বাকি বাদপ্রার্থীরা এনসিপি সহ অন্যান্য দলের অন্তর্ভুক্ত।
জামায়াত ইতিমধ্যে ২৭৬টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে; এর মধ্যে বাদপ্রাপ্তদের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ আপিল করেছেন। আপিলের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি, এবং ১০-১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
বৈঠকের পর জামায়াতের প্রতিনিধিরা ইসিআই-কে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তাহের বলেন, বিভিন্ন জেলায় ‘দলীয় ডিসি’ নিয়োগের ফলে তারা আইনকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করছেন, যা প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এধরনের ডিসি ও এসপি-দের পদ থেকে সরিয়ে, নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ না করা হলে নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
উদাহরণস্বরূপ, তিনি উল্লেখ করেন, সিলেটের দু’জন প্রার্থী, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আব্দুল মালেক, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে হলেও মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহীকে একই ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা তিনি ইসিআই-কে জানাতে চেয়েছেন।
এধরনের বৈষম্যের অভিযোগ একাধিক এলাকায় পাওয়া গেছে। একই ধরনের দ্বৈত নাগরিকত্বের মামলায় কিছু জেলায় প্রার্থীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, আবার অন্য জেলায় তা বাতিল করা হয়েছে। তাহেরের মতে, এসব সিদ্ধান্তের পেছনে ডিসি ও এসপি-দের দলীয় সংযুক্তি কাজ করছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করে।
তাহেরের দাবি অনুযায়ী, ডিসি ও এসপি-দের পদ থেকে সরিয়ে, নিরপেক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হলে প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে না এনে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি ইসিআই-কে অনুরোধ করেন, এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং প্রাসঙ্গিক কর্মকর্তাদের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে।
ইসিআই-র সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেছেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে বাদপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনা হবে এবং ডিসি-এসপি সংক্রান্ত অভিযোগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা সম্ভব, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল প্রার্থীর আপিলের সুযোগ শেষ হবে, এবং ইসিআই-র সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত হবে। জামায়াতের নায়েবে আমির তাহেরের দাবি ও ইসিআই-র প্রতিক্রিয়া দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



