ইলেকশন ইনকোয়ারি অ্যান্ড জুডিশিয়াল কমিটি হাবিগঞ্জ‑১ আসনের বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে শো‑কজ নোটিশ জারি করেছে। কমিটির মতে, তিনি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে নির্বাচনী কোড লঙ্ঘন করে প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছেন। নোটিশটি আজই কমিটি চেয়ারম্যান এবং সিভিল জাজ মো. সাইদুর রহমানের হাতে প্রস্তুত হয় এবং রেজা কিবরিয়াকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
শো‑কজ নোটিশের প্রস্তাবনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অভিযোগের ভিত্তিতে রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অভিযোগের মূল বিষয়টি হল রেজা কিবরিয়া ও তার সমর্থকরা ২ ডিসেম্বর ইমামবাড়ি বাজার, নাবিগঞ্জ উপজেলা এবং পরের দিন ৩ ডিসেম্বর পঞ্জারাই বাজারে প্যামফ্লেট বিতরণ করেছেন। এই কার্যক্রমটি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জিতু মিয়া সেন্টু এবং মোসফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান এই দুইটি ঘটনাকে অভিযোগের রূপে উপস্থাপন করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। উভয় অভিযোগই পৃথকভাবে দাখিল করা হয়েছে।
কমিটি রেজা কিবরিয়াকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার স্থান হিসেবে হাবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অস্থায়ী অফিস নির্ধারিত হয়েছে।
অভিযোগের সমর্থনে চারটি ফটো এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা কমিটির কাছে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই নথিগুলি প্যামফ্লেট বিতরণের সময় ও স্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।
রেজা কিবরিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী আজাদ আলি সুমন জানিয়েছেন যে, নোটিশটি রেজার আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমান সময়ে তিনি কোনো মন্তব্য করছেন না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আইনগত পর্যালোচনা চলমান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং নাবিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের মতে, অভিযোগগুলো নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে প্রচার কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়টি ইলেকশন ইনকোয়ারি অ্যান্ড জুডিশিয়াল কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং সেখানে যথাযথ যাচাই করা হবে।
হাবিগঞ্জ‑১ আসন নাবিগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই দুই উপজেলার ভোটারসংখ্যা ও রাজনৈতিক গঠন এই নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে কাজ করে।
রেজা কিবরিয়ার পাশাপাশি এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াত‑ই‑ইসলামি থেকে মো. শাহজাহান আলি, খিলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী সামাজিক দল (বিএএসডি) থেকে কাজী তফায়েল আহমেদ, ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং স্বাধীন প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
শো‑কজ নোটিশের জারি হওয়ার পর রেজা কিবরিয়া ও তার দলকে আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কমিটি প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রাখে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কমিটি এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করছে এবং রেজা কিবরিয়ার ব্যাখ্যা পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন সম্পর্কিত কোনো শাস্তি বা পদক্ষেপের ঘোষণা করা হবে।



