ব্যান্ড্রা ইস্ট, মুম্বাইতে সাম্প্রতিক সময়ে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ড ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বোলিভুড অভিনেত্রী দ্যি শা সামাজিক মাধ্যমে তার বাড়ির নিকটবর্তী ঘটনাটিকে নির্বাচনী প্রচার দলের অযৌক্তিক আচরণের ফল বলে প্রকাশ করেছেন। ঘটনাস্থলে প্রায় দুইশো জনের সমাবেশে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চলছিল, যেখানে দলীয় সদস্যরা আতশবাজি ব্যবহার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল।
অগ্নিকাণ্ডের মুহূর্তে শা ইনস্টাগ্রাম-এ একাধিক ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে জ্বলন্ত ফ্ল্যাটের দৃশ্য দেখা যায় এবং তিনি ঘটনাটির ধারাবাহিকতা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, একটি দলীয় সদস্যের দ্বারা ছোড়া আতশবাজি পার্শ্ববর্তী অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে আগুনের শিখা ছড়িয়ে দেয়।
শা উল্লেখ করেন, প্রচার কার্যক্রমের সময় প্রায় দুইশো মানুষ একসঙ্গে উপস্থিত ছিল এবং তাদের মধ্যে কেউই নিরাপত্তা নীতি মেনে না চলার ফলে এই দুর্ভাগ্য ঘটেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী সময়ে সিভিক সেন্সের অভাবের ফলে সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি বিপন্ন হয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের পর দলীয় সদস্যদের তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কথা শা ভিডিওতে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যারা এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ, তারা দ্রুতই সরে গেছেন, আর আমার বাড়ি ঠিক পাশে থাকায় আমাকে তৎক্ষণাৎ বের হতে হয়।” এভাবে তিনি ঘটনার তীব্রতা ও আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির ওপর আলোকপাত করেন।
শা স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার মন্তব্য কোনো পার্টির সমর্থন নয়। তবে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচার দলের জন্য যারা কর্মী নিয়োগ করে, তাদের উচিত মৌলিক নিরাপত্তা সচেতনতা নিশ্চিত করা। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখে রাখেন, “প্রচার দলকে নিয়োগ করার সময় দায়িত্বশীলতা ও সাধারণ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।”
পরবর্তী ভিডিওতে শা নির্বাচনী সময়ে আতশবাজি ব্যবহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “নির্বাচনের সময় কি এমন কোনো নিয়ম আছে, যা দলকে আতশবাজি ছোড়ার অনুমতি দেয়?” তিনি উল্লেখ করেন, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এই ধরনের কাজের ফলে বড় বিপদ সৃষ্টি হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি একজন সিভিল সার্ভেন্টের মালিকানাধীন, যা ঘটনাটির সামাজিক দিককে আরও জোরালো করে। শা বলেন, “আগুন নিভে গিয়েছে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি সরকারি কর্মীর, যা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।” তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির আহ্বান জানান।
ব্যান্ড্রা ইস্টে চলমান নির্বাচনী ক্যাম্পেইনগুলোতে দলীয় কর্মীরা প্রায়ই রেলিক্স, সঙ্গীত ও আতশবাজি ব্যবহার করে ভিড়কে আকৃষ্ট করে। তবে শা এর মতো নাগরিকের উদ্বেগের ফলে এই ধরনের অযৌক্তিক আচরণ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে অনুরোধ করেন, “প্রচার দলকে নিয়োগের সময় সিভিক সেন্স ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা উচিত।”
এই ঘটনা মুম্বাইয়ের নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। শা’র প্রকাশিত ভিডিও ও মন্তব্যের মাধ্যমে জনমত গঠিত হচ্ছে, যেখানে নাগরিকরা নির্বাচনী প্রচারকালে সুরক্ষার দায়িত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এমন অগ্নিকাণ্ড রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



