20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইংলিশ চ্যানেলে মানব পাচার জাহাজ সরবরাহকারীকে ১১ বছর জেল, €৪ লাখ জরিমানা

ইংলিশ চ্যানেলে মানব পাচার জাহাজ সরবরাহকারীকে ১১ বছর জেল, €৪ লাখ জরিমানা

ইংলিশ চ্যানেলে মানুষ পাচারকারী গ্যাংগুলোর জন্য ছোট নৌকা ও ইঞ্জিন সরবরাহকারী এক তুর্কি নাগরিককে বুধবার ব্রুজ, বেলজিয়ামে ১১ বছর কারাদণ্ড এবং €৪০০,০০০ (প্রায় £৩৪৬,০০০) জরিমানা করা হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী আদেম সাভাস, জাতীয় অপরাধ সংস্থা (NCA) এর পূর্বে সর্বাধিক অনুসন্ধানাধীন ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত, নিজে অপরাধ স্বীকার করে মানুষ পাচার এবং সংগঠিত অপরাধ গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়।

সাভাসকে মানব পাচার জালিয়াতিতে হাজার হাজার ছোট নৌকা ও ইঞ্জিন সরবরাহের জন্য দায়ী করা হয়েছে। আদালতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনি গ্যাংগুলোকে গড়ে প্রতি প্যাকেজে প্রায় £৪,০০০ চার্জ করতেন, যা তার মোট আয়কে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছে দিয়েছে বলে NCA অনুমান করে।

জাতীয় অপরাধ সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৩ সালে চ্যানেলে সংঘটিত অর্ধেকেরও বেশি অতিক্রমে সাভাসের সরবরাহিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তাকে ইউরোপীয় মানব পাচার নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার ফলে তার কাজকে “ইউরোপের মানব পাচার শীর্ষ স্তরে” এক গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাভাসের গ্রেফতার একটি যৌথ অপারেশনের ফল, যেখানে বেলজিয়াম এবং যুক্তরাজ্যের NCA একসাথে কাজ করেছে। তাকে নভেম্বর ২০২৪-এ আমস্টারডামের শিপহল বিমানবন্দরে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে ব্রুজের আদালতে বিচার করা হয়।

তার অপরাধের মূল সূত্র পাওয়া যায় হেওয়া রাহিমপুর নামে কুর্দি জাতীয় এক অপরাধীর তদন্ত থেকে, যিনি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে ১০,০০০ এরও বেশি অভিবাসীকে ছোট নৌকায় নিয়ে যাওয়া একটি বড় পাচার জালের নেতৃত্ব দিতেন। রাহিমপুরের মামলায় সাভাসকে “নৌকা ও ইঞ্জিনের প্রধান সরবরাহকারী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

NCA এর অপারেশন ডিরেক্টর রব জোন্স উল্লেখ করেন, সাভাসের সরবরাহিত যন্ত্রপাতি চ্যানেলে ঘটিত বহু প্রাণঘাতী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তিনি বলেন, সাভাস একটি বৈধ সামুদ্রিক সরবরাহ কোম্পানির ছদ্মবেশে কাজ করলেও, সরবরাহিত সামগ্রী দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রার জন্য অনুপযুক্ত তা তিনি জানতেন।

যুক্তরাজ্যের সীমানা নিরাপত্তা মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিসও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য করে, সরকার মানব জীবনের বদলে নগদে লেনদেন করা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং “এই পাচার রাজা”কে গ্রেফতার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, একক বছরে চ্যানেলে ছোট নৌকায় মোট ৪১,৪৭২ অভিবাসী পারাপার করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই সংখ্যা মানব পাচার নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের বিস্তৃতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা উভয়ই প্রকাশ করে।

সাভাসের শাস্তি চূড়ান্ত হলেও, তার বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানা এবং সম্পদ জব্দের বিষয়ে আপিলের সম্ভাবনা রয়ে গেছে। একই সঙ্গে, NCA এবং বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই মামলার ভিত্তিতে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গ্যাং ও সরবরাহ চেইনের ওপর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

অধিক তদন্তের ফলস্বরূপ, চ্যানেলে ব্যবহৃত নৌকা ও ইঞ্জিনের উৎপত্তি, বিক্রয় নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক প্রবাহের ওপর আরও বিশদ তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে মানব পাচার নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলতে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

সর্বশেষে, আদালতের রায় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার চলমান তদন্ত মানব পাচার সমস্যার মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের দৃঢ়তা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর শাস্তি ও কার্যকরী নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments