চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ জজ আদালত বুধবার নুরুল আবছারকে, যিনি পূর্বে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন, অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত তিনটি মামলায় মোট তিন বছরের সাজা প্রদান করে। বিচারক মিজানুর রহমান রায়ে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এক বছর করে তিনটি শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।
আবছারকে ১৯৮৪ সালে কক্সবাজার পৌরসভার উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রপতি অনুদান হিসেবে বরাদ্দ করা ১৫ লাখ ৭৫২০ টাকার মধ্যে থেকে ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে প্রথম মামলা দায়ের করা হয়। ঐ সময়ের জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা এই অভিযোগটি উত্থাপন করেন।
দ্বিতীয় মামলায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মেয়র পদে থাকাকালীন উন্নয়ন কাজের জন্য জারি করা ৯০টি চেকের মাধ্যমে মোট ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকার তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই চেকগুলোতে অনুপযুক্তভাবে অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে আদালত রায় দেন।
তৃতীয় মামলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারা ৫(২) এবং দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯ অনুযায়ী ১৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড, একই পরিমাণের জরিমানা এবং অপরিশোধিত জরিমানা বাবদ ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, সব তিনটি অভিযোগই আবছারের মেয়রকালের সময়কালে সংঘটিত হয়েছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিটি মামলায় প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে এবং শাস্তি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মোট তিনটি আলাদা শাস্তি একত্রে তিন বছরের কারাদণ্ড গঠন করে, যা একসাথে কার্যকর হবে। অতিরিক্তভাবে, ১৩ লাখ ২৭ হাজার টাকার জরিমানা পরিশোধ না হলে ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ডও কার্যকর হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (ডিসি) অনুসন্ধান দল মামলাগুলোর প্রমাণ সংগ্রহের সময় বিভিন্ন আর্থিক নথি, চেকের রেকর্ড এবং সরকারি অনুদানের বরাদ্দের নথি বিশ্লেষণ করে। তদন্তে দেখা যায়, অনুদানের কিছু অংশ প্রকৃত উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর, আবছার তার আইনজীবীর মাধ্যমে আপিলের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। আপিলের ক্ষেত্রে উচ্চতর আদালতে মামলার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যেখানে শাস্তি হ্রাস বা রায়ের পুনরায় বিবেচনা করা হতে পারে।
এই রায়ের ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি বাড়ছে। নাগরিক ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলো এই রায়কে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
অধিকন্তু, ডিসি এই রায়ের পরবর্তী পর্যায়ে অন্যান্য সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তদন্ত চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অনুদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও জনমতকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন এবং আপিলের ফলাফল কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।
এই রায়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজের গুরুত্ব ও আইনি প্রয়োগের দৃঢ়তা পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে অনুদান ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আদালত রায়ের পরবর্তী কার্যক্রমে আপিলের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে, এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তা মেনে চলতে হবে।



