ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা, বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সুজনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর যারা ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারা নিষ্ক্রিয় নয়; বরং বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাখাওয়াত হোসেন প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা কীভাবে গড়ে উঠছে। তারা কি পূর্বের অবস্থায়ই থাকতে চায়, নাকি পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হতে চায়, এ বিষয়ে এখনো কোনো দল স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি। তিনি বলেন, বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে এমন কোনো অঙ্গীকার শোনা যায়নি, যদিও কিছু নতুন দল থেকে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি, যা অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তার প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কিছু মন্তব্য শোনা গিয়েছে। তবে সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, বৃহত্তর দলগুলো থেকে এখনও স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বক্তৃতার মাঝখানে তিনি স্বীকার করেন, তিনি এবং উপস্থিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরাও বিভিন্ন গুজব ও গুঞ্জন শুনে আসছেন। বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চলছে, এবং বিতাড়িত নেতারা সক্রিয়ভাবে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন, যা জনমতকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে গৃহীত।
সাখাওয়াত হোসেনের মতে, এই প্রোপাগান্ডা শুধুমাত্র তথ্য ছড়িয়ে দেয় না, বরং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গণভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে জনগণ সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, নির্বাচন কমিশনকে মাঠে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা উচিত, যাতে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে নির্বাচন কমিশনের এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন পরিচালনা করতে ইচ্ছুক, এবং এটাই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকার নির্বাচন কমিশনের মাঠে কাজকে সমর্থন করে, তবে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ স্বাভাবিক হতে পারে।
অন্যদিকে, বিতাড়িত নেতাদের প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক দলের অল্প অঙ্গীকারের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই পার্থক্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গঠন ও জোটের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বৈঠকের শেষে সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট নীতি ও পরিকল্পনা না থাকলে জনসাধারণের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়বে। তিনি আহ্বান জানান, সব দলই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জনমতকে সঠিক দিশা দেখাতে হবে।
এই আলোচনার পর, উপস্থিত অন্যান্য বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকরা ভোটার সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি প্রস্তাব করেন। তারা একমত যে, নির্বাচন কমিশনের মাঠে উপস্থিতি এবং সরকারী সমর্থনই ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।
সর্বশেষে, সাখাওয়াত হোসেনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দেশের রাজনৈতিক পরিসরে পরিবর্তনের চাহিদা বাড়ছে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট নীতি, প্রাসঙ্গিক দলীয় অঙ্গীকার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এই উপাদানগুলো কীভাবে সমন্বিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



