রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন গত রাত প্রায় একটায় মস্তিষ্কের স্ট্রোকের আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি তৎক্ষণাৎ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগে স্থানান্তরিত হন।
বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোজাম্মেল হোসেন বকুল জানান, নিউটনের অবস্থা আর সংকটজনক নয় এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে শারীরিক দিক থেকে একপাশে কিছু জটিলতা দেখা দিচ্ছে, ফলে তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডাঃ সঙ্কার কে. বিস্বাসও একই কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলছেন, রোগী নিউরোমেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং বর্তমানে তিনি বিপদের বাইরে। তবে আরও বিস্তারিত জানার জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
মস্তিষ্কের স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহে বাধা বা রক্তস্রাবের ফলে সৃষ্ট তীব্র স্নায়বিক ব্যাঘাত। সাধারণত হঠাৎ মাথা ঘোরা, দেহের একপাশে দুর্বলতা, কথা বলতে অসুবিধা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। দ্রুত সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা শুরু করা রোগীর পুনরুদ্ধার সম্ভাবনা বাড়ায়।
নিউরোমেডিসিন বিভাগে স্ট্রোক রোগীর জন্য প্রথমে রক্তের জমাট বাঁধা দূর করার জন্য থ্রম্বোলাইসিস বা শল্যচিকিৎসা করা হয়, এরপর রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি এবং শারীরিক থেরাপি চালু করা হয়। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলে ধীরে ধীরে চলাচল ও স্বতন্ত্র কাজের প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়।
ডাঃ বিস্বাস উল্লেখ করেছেন, নিউটনের বর্তমান অবস্থায় কোনো তীব্র ঝুঁকি নেই, তবে সঠিক নির্ণয় ও পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত ইমেজিং এবং রক্তপরীক্ষা করা হবে। এই পরীক্ষাগুলি রোগের সঠিক কারণ ও প্রভাব নির্ণয়ে সহায়তা করবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে নিউটন একাধিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও মিডিয়া বিষয়ক প্রবন্ধের লেখক। তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন। তার গবেষণায় গণমাধ্যমের ভূমিকা ও জনমত গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
অধ্যাপক নিউটনের অসুস্থতা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা জানিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চেনা এবং জরুরি সেবা কল করা রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়; তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জীবনধারার পরিবর্তন প্রয়োজন।
সামাজিক মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে স্ট্রোক সম্পর্কিত সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া জনসচেতনতা বাড়াতে সহায়ক। রোগীর পরিবার ও পরিচিতদের জন্য মানসিক সমর্থনও পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অবশেষে, সেলিম রেজা নিউটনের বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পূর্ণ সুস্থতার জন্য সময় ও যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। রোগীর অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল উভয়ই তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



