আজ ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (DRU) তে জাতীয়তাবাদী সমমন জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শোকসভা ও দোয়া মহফিলে বিএনপি সিনিয়র নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী মোয়েন খান বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বভাব সম্পর্কে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষজনের রক্তে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রবাহ রয়েছে এবং কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক শক্তি এই প্রবাহকে থামাতে সক্ষম নয়।
মোয়েন খান এই বক্তব্য দেন যখন তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশটি জিয়ার দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্মান জানাতে এবং তার মৃত্যুর শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তা উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি গোষ্ঠীর প্রভাবের অধীনে পরিচালিত বলে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে নিরপেক্ষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তিনি বলেন, সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
মোয়েন খান জিয়ার জনপ্রিয়তা ও তার নির্বাচনী সাফল্যকে জনগণের গভীর স্নেহের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জিয়াকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান রক্ষক ও ধারক হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার বহুবার নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে জিয়ার ওপর ধারাবাহিক দমন ও রাজনৈতিকভাবে প্রেরিত মামলার চাপ ছিল, তবে তিনি এই চ্যালেঞ্জের মুখে ধৈর্য্য বজায় রেখেছেন, তা মোয়েন খান উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সময়ে জিয়া বহুবার অবৈধ মামলার শিকার হয়েছেন, তবে তার দৃঢ়তা ও আইনগত লড়াই তাকে অটল রেখেছে।
একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের স্মৃতিতে মোয়েন খান জানান, তিনি একবার জিয়ার সঙ্গে অবৈধ মামলাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। জিয়া তখন বলেন, তিনি আইনগত পথে মামলাগুলোকে খণ্ডন করবেন এবং জনগণকে সত্যের দিকে নিয়ে যাবেন। এই কথোপকথন থেকে বোঝা যায়, জিয়া তার নির্দোষতা প্রমাণের জন্য আদালতের ওপর নির্ভর করতে চান।
মোয়েন খান ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখকে সত্য ও গণতন্ত্রের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা জিয়ার বিরুদ্ধায় কাজ করেছিল, যারা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরোধিতা করেছিল, তারা শেষ পর্যন্ত হীনমন্য হয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে তিনি জিয়ার সঠিকতা প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সময়কালে জিয়ার নেতৃত্বে দেশটি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পর্যায় অতিক্রম করেছে, যা তিনি দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বিএনপি ও জিয়ার সমর্থকরা এই বক্তব্যকে জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, শাসনকারী আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থকরা এখনও জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তার নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। যদিও এই সমাবেশে সরকারী পক্ষের কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেছেন যে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে পার্টি-ভিত্তিক সংঘাতের তীব্রতা বাড়াতে পারে।
মোয়েন খানের এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তা দমন করা সম্ভব নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে, তা তিনি আহ্বান জানান।



