সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি২০ ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস ৭ উইকেটের ব্যবধানে নোয়াখালি এক্সপ্রেসকে পরাজিত করে। নাসির হোসেনের ব্যাট ও বোল দুটোই উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দলকে জয়লাভে অগ্রসর করে, ফলে তাদের প্লে‑অফের সম্ভাবনা পুনরায় জোরদার হয়েছে।
নাসির প্রথমে তিন ওভারে ১ উইকেটের সঙ্গে ২৪ রান দিলেন, যা দলের বোলিং আউটফিটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার পরের দুই বোলার প্রত্যেকেই এক‑একটি উইকেট নেয়, ফলে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের স্কোরকে ২০ ওভারে ১৩৩ রান/৬-এ সীমাবদ্ধ রাখা যায়।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ব্যাটিং শুরুতে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। পূর্ববর্তী ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৬১ রান করে আউট হওয়ার পর, এই ম্যাচে প্রথম দশ ওভারে ৪০ রানে ৫ উইকেট হারায়। বিদেশি খেলোয়াড় হায়দার আলি ও মোহাম্মদ নাবি ৬১ বলে ৯১ রান যোগায়, যা টোটালকে কিছুটা রেসকিউ করে। হায়দার ৩৬ বলে ৪৭ রান করে শেষ ওভারে আউট হন, আর নাবি ৩৩ বলে ৪২ রান অক্ষত রেখে শেষ করেন।
ধাক্কা দিয়ে লক্ষ্য পূরণে ঢাকার ব্যাটিং লাইন‑আপ দ্রুত এগিয়ে যায়। নাসির হোসেন ৫০টি বলের মধ্যে ৯০ রান না-আউট করেন, যার মধ্যে ১৪টি চতুর্থ এবং দুইটি ছয়। তিনি ২১ বলে অর্ধশতক পূরণ করে টুর্নামেন্টের দ্রুততম ফিফটি রেকর্ড করেন। তৃতীয় উইকেটের জন্য ইমাদ ওয়াসিম ১৬ বলে ২৯ রান না-আউট করে নাসিরের সঙ্গে ৬১ রানের অটুট অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত ঢাকা ক্যাপিটালস ১৪.১ ওভারে ৩ উইকেট রেখে লক্ষ্য ১৩৪ রান অর্জন করে জয় নিশ্চিত করে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের দিক থেকে হাসান মাহমুদ ৩ ওভারে ২ উইকেটের সঙ্গে ১৭ রান দিয়ে একমাত্র উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখান। তবে দলটি ধারাবাহিকভাবে হেরে চলেছে; এই পরাজয় তাদের টুর্নামেন্টে পঞ্চম পরপর হারের সূচক। অন্যদিকে ঢাকা ক্যাপিটালসের এই জয় তাদের ছয় ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় এবং তিনটি ধারাবাহিক পরাজয়ের পর শেষ হয়, ফলে প্লে‑অফের পথে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়।
এই জয় ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখন তারা টেবিলে উপরে উঠে প্লে‑অফের জন্য সম্ভাব্য স্থান নিশ্চিত করতে পারে। নোয়াখালি এক্সপ্রেসের জন্য এই পরাজয় দলকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলেছে, যেখানে পরবর্তী ম্যাচে তাদের পুনরুদ্ধার কঠিন হবে। বিপিএল টি২০ সিজনের বাকি ম্যাচগুলোতে উভয় দলই তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে।



