ঢাকা, বুধবার – প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার আগামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট না জিতলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ পুনরায় উত্থান পাবে, তা রোধ করা যাবে না, এমন মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গণভোটের মূল উদ্দেশ্যই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দমন করা।
হায়দার বলেন, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট না আসে, তবে নিশ্চিতভাবে ফ্যাসিবাদ আবার দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ফিরে আসবে এবং তা থামাতে কেউ সক্ষম হবে না। তার কথায় স্পষ্ট যে, গণভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, গণভোটের আয়োজনকে ফ্যাসিবাদী পুনরাগমন রোধের একমাত্র উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হায়দার জোর দিয়ে বলেন, ভোটের ফলাফল না হলে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিকেলবেলায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সুজনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে হায়দার তার মতামত প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনকে তিনি এই গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন।
হায়দার আরও উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ হঠাৎ করে প্রকাশিত হয়েছে এবং সকল রাজনৈতিক দল স্বেচ্ছায় এতে স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, এই সনদটি কোনো চাপের অধীনে নয়, বরং জাতীয় সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
সনদের স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায় কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি; সব দলই স্বেচ্ছায় এবং সমর্থনজনকভাবে এতে অংশগ্রহণ করেছে। হায়দার এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সনদটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সনদটি সরকার, রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার সমন্বয়ে বহু মাসের আলোচনা, গবেষণা ও পরামর্শের মাধ্যমে রূপ নেয়। হায়দার উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় মোট ১৬ বছর এবং ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা সংযোজিত হয়েছে।
সনদের মূল লক্ষ্য হল ফ্যাসিবাদী প্রবণতা শনাক্ত করে তা দমন করা; হায়দার এটিকে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধের প্রেসক্রিপশন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সনদে উল্লেখিত নীতি ও পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ পুনরায় উত্থান পাবে।
হায়দার সতর্ক করেন, যদি জাতীয় সনদ অনুমোদিত হয়েও বাস্তবায়ন না হয়, তবে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার সক্রিয় হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দায়িত্ব পুরো জাতির ওপরই থাকবে।
বৈঠকে হায়দার নেতিবাচক ক্যাম্পেইন, অপপ্রচার এবং জনমতকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্কতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এসব কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে চলমান এবং সনদের সফলতা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
হায়দার উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও তাদের সম্পদ ও প্রভাব সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়নি। তাদের কাছে বিশাল লুটপাটের অর্থ এবং দেশীয়-বিদেশী স্বার্থপর গোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে, যা তাদের পুনরায় শক্তি সংগ্রহে সহায়তা করে।
শেষে হায়দার বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির এই দুইটি প্রধান সুবিধা—অর্থের প্রবাহ এবং স্বার্থপর গোষ্ঠীর সমর্থন—বিপর্যয় রোধে জাতির ঐক্য ও সনদের বাস্তবায়নকে বাধা দিতে পারে। তিনি আহ্বান জানান, জাতি হিসেবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা ফ্যাসিবাদ পুনরায় শাসন করবে।



