বুর্কিনা ফাসোর সেনা নেতা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রায়ারকে লক্ষ্য করে গৃহীত একটি হত্যার পরিকল্পনা নিরাপত্তা গোপনীয়তা সংস্থার হস্তক্ষেপে রোধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা মন্ত্রী মহামদু সানা রাতের শেষ দিকে টেলিভিশনে জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পল হেনরি দামিবার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল, যাকে ত্রায়ার সেপ্টেম্বর ২০২২-এ ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রপতি ত্রায়ারকে হত্যা করা এবং পরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক ব্যক্তিত্বদের ওপর আক্রমণ চালানো।
দামিবা, যিনি পূর্বে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, তার বিরুদ্ধে গৃহীত তথ্য অনুসারে তিনি সামরিক ও বেসামরিক সমর্থকদের সমন্বয় করে একটি জটিল পরিকল্পনা তৈরি করেন। নিরাপত্তা মন্ত্রীর মতে, এই পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে গোপনীয়তা সংস্থার নজরে আসে এবং তা থামানো হয়। দামিবার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রতিবেশী আইভরি কোস্ট থেকে এসেছে বলে জানা যায়।
মহামদু সানা উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থা একটি লিক হওয়া ভিডিওর মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের কথোপকথন শোনে। ভিডিওতে তারা রাত ২৩:০০ টার পরে ত্রায়ারের বাড়িতে বিস্ফোরক বসিয়ে বা নিকটবর্তী গুলি করে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে। ত্রায়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল না থাকলেও, এই ধরনের পরিকল্পনা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।
ভিডিওতে দেখা যায়, দামিবা এবং তার সহকর্মীরা উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে অতিরিক্ত আক্রমণ চালানোর কথা উল্লেখ করে। এছাড়া, তারা দেশের ড্রোন-লঞ্চ বেসকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিল, যাতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নষ্ট করা যায়। দামিবা এই কাজের জন্য আইভরি কোস্ট থেকে প্রায় ৭০ মিলিয়ন সিএফএ ফ্র্যাঙ্ক (প্রায় ১২৫,০০০ ডলার) তহবিল পেয়েছিলেন বলে নিরাপত্তা মন্ত্রীর দাবি।
সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্তরে গৃহীত এই পরিকল্পনা এখনো সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা মন্ত্রীর মতে, সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা শীঘ্রই আদালতে হাজির হবে। সানা নিশ্চিত করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাপ্টেন ত্রায়ার ৩৭ বছর বয়সী, যিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে অন্তত দুইটি সামরিক অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়েছেন। ত্রায়ারকে জিহাদী গোষ্ঠীর আক্রমণও ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে। তার শাসনকালকে স্বৈরাচারী হিসেবে সমালোচনা করা হলেও, ত্রায়ার আফ্রিকান ঐক্য ও পশ্চিমা হস্তক্ষেপের বিরোধিতা নিয়ে জনপ্রিয় সমর্থন বজায় রেখেছেন।
এই ঘটনার পর বুর্কিনা ফাসোর রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। নিরাপত্তা গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের ফলে সরকারকে অভ্যুত্থানমূলক চেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে। ত্রায়ার তার স্বৈরাচারী শাসনকে বৈধতা দিতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন বজায় রাখতে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
অবশেষে, গ্রেফতারকৃতদের বিচার প্রক্রিয়া এবং দামিবার আর্থিক সহায়তার উৎস উন্মোচন করা হবে, যা বুর্কিনা ফাসোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নীতির দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা মন্ত্রীর আশ্বাসের ভিত্তিতে, দেশের শাসন কাঠামো এই ধরনের অভ্যুত্থানমূলক হুমকির মোকাবিলায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করবে।



