নতুন বছরের আগের রাতে সুইজারল্যান্ডের ক্র্যান্স‑মন্টানা শহরের লে কনস্টেলেশন বার-এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায় ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৬ জনের আঘাত। ঘটনাস্থলটি একটি স্কি‑বার, যেখানে শ্যাম্পেনের বোতলে স্পার্কলার যুক্ত করে উদযাপন করা হচ্ছিল। পরিবারগুলো জানিয়েছে যে, বারটি পাঁচ বছর ধরে কোনো নিরাপত্তা পরিদর্শনের আওতায় আসেনি, যা তাদের মধ্যে গভীর বিস্ময় ও রাগের সৃষ্টি করেছে।
পরিদর্শনের অভাবের কারণ সম্পর্কে ক্র্যান্স‑মন্টানা মেয়র নিকোলাস ফেরোড মঙ্গলবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, বারটি কেনো বছরের পরিদর্শন পায়নি তা তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। তিনি উল্লেখ করেন যে, বারটি প্রতি বছর নিরাপত্তা চেকের আওতায় থাকা উচিত ছিল, তবে তা ঘটেনি। মেয়র এই ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পরিবারকে দায়িত্ব স্বীকারের প্রতিশ্রুতি দেন এবং স্থানীয় স্থানে স্পার্কলার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন।
পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী রোমেইন জর্ডান উল্লেখ করেন যে, পরিদর্শনের সময় পাওয়া বিশাল সংখ্যক লঙ্ঘন ও ত্রুটি বিষয়টি গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের লঙ্ঘনগুলোকে উপেক্ষা করা যায় না এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর আরও কঠোর নজরদারির দাবি তোলেন।
অন্যান্য আইনজীবীরাও একইভাবে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, লে কনস্টেলেশন বার‑এর নিরাপত্তা ব্যর্থতা একটি গুরুতর অবহেলা এবং এর জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
প্রসিকিউটররা বিশ্বাস করেন যে, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ ছিল স্পার্কলার যুক্ত শ্যাম্পেনের বোতলগুলি সিলিংয়ের শব্দ‑ইনসুলেটিং ফোমে আগুন লাগিয়ে দেয়া। ফোমটি দ্রুত জ্বলে ওঠে, ফলে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ক্ষতি হয়।
বারের দুইজন ম্যানেজারকে অপরাধমূলক তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, তবে তারা বর্তমানে হেফাজতে নেই। তাদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলাজনিত অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফরাসি দম্পতি জ্যাক এবং জেসিকা মোরেটি, যারা বার‑এর মালিকানা ও পরিচালনায় জড়িত, তাদেরও একই অপরাধের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলাজনিত অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত। দম্পতি প্রথম বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তারা এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মেয়র নিকোলাস ফেরোডের মন্তব্যে স্পার্কলার ব্যবহার স্থানীয় সব প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। তিনি পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি আর না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডে বেশিরভাগ শিকার তরুণ, যার মধ্যে আটজন ১৬ বছরের নিচে। আহতদের মধ্যে অনেকেই তীব্র পোড়া পেয়েছেন এবং সুইজারল্যান্ডের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
মৃত্যুবরণকারী শিকারদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং পরিবারগুলো শোকের মধ্যে সমবেত হয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করছে।
সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী ক্যান্টন স্তরে নির্ধারিত হয়, তবে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্থানীয় পৌরসভার উপর থাকে। এই কাঠামো অনুসারে, ক্র্যান্স‑মন্টানা পৌরসভা বার‑এর নিরাপত্তা পরিদর্শন না করার জন্য দায়বদ্ধ।
অপরাধমূলক তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী আদালত তারিখ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, যা পরিবার ও জনসাধারণকে ঘটনার পূর্ণ দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়তা করবে।



