জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০টি সংসদীয় আসন জামায়াত‑ইসলামিকে ছাড়বে এমন গুজবকে নায়েব আমিরের নায়েব ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে খণ্ডন করেছেন। তিনি এই মন্তব্য বুধবার, ৬ জানুয়ারি, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতের অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রদান করেন।
সেই দিন সকালে জামায়াতের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে তাহের স্পষ্টভাবে বলেন, পার্টি কোনো ধরনের আসন‑বণ্টন চুক্তিতে যুক্ত নয় এবং এধরনের তথ্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
একই দিনে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) এর এশিয়া‑প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাউলা পাম্পালোনি জামায়াতের নায়েবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর দুজনের মধ্যে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়, যেখানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও আসন্ন নির্বাচনের ওপর প্রশ্ন ওঠে।
সৈয়দ তাহের উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এক‑দুই সপ্তাহে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তর একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকে যাওয়া লক্ষণ দেখিয়েছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন প্রবণতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যদি নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত হয় তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই তিনি নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, যেন তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে তাহের জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রশ্নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তাহের উত্তর দেন, সরকার ক্ষমতায় এলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অংশীদারকে একত্রিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেখানে তারা ফিরে যাবে সেখানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।
এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি দেশীয় সংস্থা, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের কথা উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আসন‑বণ্টন সম্পর্কিত গুজবের প্রত্যাখ্যান জামায়াতের অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিগত কয়েক মাসে জামায়াতের সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী দলের জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল; তবে এখন নায়েবের নায়েবের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান ঐ আলোচনাকে নতুন দিক দিতে পারে।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকার কীভাবে এই দাবিগুলোর প্রতিক্রিয়া জানাবে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রধান দৃষ্টিপাতের বিষয় হয়ে থাকবে।



