ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে আজ বিক্রেতা গোষ্ঠী মানবশৃঙ্খলে একত্রিত হয়ে জাতীয় সরঞ্জাম পরিচয় নিবন্ধন (NEIR) সিস্টেমের কার্যকরী তারিখ পিছিয়ে দেওয়া এবং পূর্বে প্রতিবাদে গ্রেফতার হওয়া সহকর্মীদের মুক্তি চেয়েছেন। এদিকে তারা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (BTRC) কর্তৃক আরোপিত মামলাগুলোর প্রত্যাহার, BTRC অফিসে ধ্বংসযজ্ঞে জড়িতদের মুক্তি, মোবাইল ফোনের মোট শুল্ক ১০‑১২ শতাংশে কমানো, ব্যবহৃত ফোনের আমদানি অনুমোদন এবং আমদানি প্রক্রিয়ার সরলীকরণও দাবি করেছেন।
প্রদর্শনকারীরা উল্লেখ করেছেন যে শুল্ক হ্রাস এবং আমদানি নীতির সহজীকরণ না হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না, ফলে গ্রাহকদের কাছে ফোনের দাম বাড়তে পারে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে বর্তমান শুল্কের হার উচ্চ হওয়ায় অনেক বিক্রেতা অবৈধ চ্যানেল থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বাজারের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে।
এই মানবশৃঙ্খলটি মঙ্গলবার জামুনা ফিউচার পার্কের সামনেও অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে একই ধরনের দাবিগুলো পুনরায় তুলে ধরা হয়। উভয় প্রদর্শনীই বিক্রেতা গোষ্ঠীর সমন্বয়ে সংগঠিত হয় এবং তাদের দাবি স্পষ্টভাবে সরকারের নীতি পরিবর্তনের দিকে লক্ষ্য করে।
সরকার ১ জানুয়ারি NEIR সিস্টেম চালু করে শুল্কের হার প্রায় ৬০ শতাংশ থেকে ৪৩.৪ শতাংশে কমিয়ে দেয় এবং পূর্বে অবৈধ বলে বিবেচিত হ্যান্ডসেটগুলোকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনতে উদ্যোগ নেয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার অবৈধ ও নকল ফোনের প্রবাহ কমিয়ে ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়াতে চেয়েছে।
একই দিনে BTRC অফিসে কিছু লোকের আক্রমণ ঘটে, যার ফলে ৪৫ জন গ্রেফতার হয়। এই ঘটনার পরপরই বিক্রেতা গোষ্ঠী NEIR সিস্টেমের বাস্তবায়নকে বাধা হিসেবে দেখিয়ে প্রতিবাদ বাড়িয়ে দেয়।
জানুয়ারির পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে আবার প্রতিবাদে উত্তেজনা দেখা যায়; পুলিশ ব্যাটন, সাউন্ড গ্রেনেড এবং তেজ গ্যাস ব্যবহার করে কর্মীদের ছড়িয়ে দেয়। এই পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় অস্থায়ী অশান্তি সৃষ্টি হলেও, সরকার NEIR সিস্টেম চালু রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা আসে যে NEIR সিস্টেমের সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে না এবং নীতি অনুযায়ী শুল্কের হ্রাস ও আমদানি নিয়মের সংস্কার চালিয়ে যাবে। এই অবস্থান ব্যবসা সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (MIOB) এই সিস্টেমকে ভোক্তা সুরক্ষা এবং বাজার শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে IMEI রেজিস্ট্রেশন ফোনের গুণমান নিশ্চিত করবে এবং নকল পণ্যের বাজারকে দমন করবে।
NEIR একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস, যেখানে দেশের সব মোবাইল ফোনের আন্তর্জাতিক মোবাইল সরঞ্জাম পরিচয় (IMEI) নম্বর রেকর্ড করা হয়। এই ডেটা ব্যবহার করে অবৈধ ফোনের সনাক্তকরণ, ট্যাক্স চুরি রোধ এবং ফোন-সম্পর্কিত অপরাধের প্রতিরোধে সহায়তা করা হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে শুল্কের হ্রাস এবং ব্যবহৃত ফোনের আমদানি অনুমোদন দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের জন্য দাম কমাতে পারে, তবে একই সঙ্গে নকল ও অবৈধ পণ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হবে। আমদানি প্রক্রিয়ার সরলীকরণ যদি স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ চ্যানেল থেকে পণ্য সংগ্রহে সুবিধা পাবে।
সারসংক্ষেপে, বিক্রেতা গোষ্ঠীর মানবশৃঙ্খল প্রতিবাদ সরকারী নীতির সঙ্গে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। শুল্ক হ্রাস, ব্যবহৃত ফোনের আমদানি এবং NEIR সিস্টেমের কার্যকরীতা দেশের মোবাইল বাজারের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার যদি বিক্রেতা গোষ্ঠীর দাবিগুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে নীতি সমন্বয় করে, তবে বাজারের স্থিতিশীলতা ও ভোক্তা স্বার্থ দুটোই সুরক্ষিত হবে।



