শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার দরিদ্র ও অসহায় জনগণের জন্য ২০ লক্ষের বেশি কম্বল সরবরাহের পরিকল্পনা চালু করেছে। উদ্যোগটি প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তহবিলের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি দেশের ৬৪ জেলা, ৪৯৫ উপজেলা এবং সব পৌরসভায় সমানভাবে চালু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ২১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিতরণকৃত কম্বলগুলোর মোট সংখ্যা ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯ পিস, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ত্রাণ তহবিলের সহায়তায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৮৯টি কম্বল ইতিমধ্যে শীতার্তদের হাতে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা সরকারী রেকর্ড অনুযায়ী সর্বশেষ আপডেট।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) সরকারি আর্থিক বিধি অনুসারে কম্বল ক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রমের তদারকি সঠিকভাবে করা যায়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শীতের প্রভাব থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে রক্ষা করা এবং মৌলিক শীতকালীন চাহিদা পূরণ করা। তিনি বলেন, তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে।
বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও এনজিওগুলোর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। তারা কম্বল সংগ্রহ, গুদামজাতকরণ এবং শেষ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর কাজের সমন্বয় করে চলেছে। এই সহযোগিতা দ্রুত ও সুষ্ঠু বিতরণে সহায়তা করছে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলের প্রধান কর্মকর্তা জানান, তহবিলের ব্যবহার স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন হলে তা দ্রুত সরবরাহ করা হবে। তহবিলের ব্যবহার সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে আপডেট করা হবে।
বিতরণকৃত কম্বলগুলো মূলত উল বা পলিয়েস্টার মিশ্রণ দিয়ে তৈরি, যা শীতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া সময়ে গরম রাখার জন্য উপযুক্ত। সরকার এই ধরনের মানসম্পন্ন পণ্য নির্বাচন করে যাতে গ্রাহকের স্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
বিতরণ প্রক্রিয়ার সময় কিছু এলাকায় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে সমস্যার সমাধান করে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে অধিকাংশ এলাকায় সময়মতো কম্বল পৌঁছেছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দাবি করে, তহবিলের ব্যবহার ও কম্বল বণ্টনের মানদণ্ডে আরও কঠোর তদারকি প্রয়োজন। সরকার এই উদ্বেগগুলোকে স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে বরাদ্দকৃত তহবিলের মাধ্যমে বাকি কম্বলগুলো সম্পূর্ণভাবে বিতরণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই ধাপের লক্ষ্য সব দরিদ্র পরিবারে শীতের মৌলিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শীতকালীন রোগের ঝুঁকি কমানো।
বিতরণ শেষ হওয়ার পরেও সরকার শীতকালীন জরুরি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও খাবারের সহায়তা চালিয়ে যাবে। এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শীতের প্রভাব কমিয়ে দেশের দরিদ্র জনগণের জীবনমান উন্নত করা হবে।



