আর্জেন্টিনার ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই ম্যাচের পর তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তে ছিলেন এবং আত্মহত্যার চিন্তা করছিলেন। একই সময়ে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, যদিও কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় দলকে ফিরিয়ে নেন।
মেসি ক্লাব ফুটবলে লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সুপার কাপসহ প্রায় সব বড় শিরোপা জিতেছেন এবং আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ও একাধিক কোপা আমেরিকা জিতেছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা সাফল্যের পেছনে ২০১৬ সালের ফাইনাল পরের অন্ধকার অধ্যায়টি রয়েছে, যা তিনি সম্প্রতি লুজু টিভির সঙ্গে করা এক সাক্ষাৎকারে উন্মোচন করেছেন।
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালটি টায়ব্রেকার পেনাল্টি শুটআউটে শেষ হয়, যেখানে চিলি ৪-৩ স্কোরে মেসির দলকে পরাজিত করে। ম্যাচের পর মেসি প্রকাশ্যে বলেন, “খুব অনুশোচনা হয়েছে, মরে যেতে চেয়েছিলাম।” এই শব্দগুলো তার মানসিক অবস্থা এবং আত্মবিশ্বাসের ভাঙনকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
ফাইনালের পরপরই মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আবার দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তার ফিরে আসা দেশের ফুটবলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, কারণ পরবর্তী বছরগুলোতে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা ২০২১ এবং ২০২৪ উভয়ই জয়লাভ করে, পাশাপাশি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও শিরোপা জেতে।
মেসি তার পুনরায় দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “সবারই নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তবে মনের ইচ্ছাকে কখনো উপেক্ষা করা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষ কী বলছে, সেসবের তোয়াক্কা না করে জাতীয় দলে ফিরে আসা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” এই বক্তব্য তার আত্মবিশ্বাসের পুনর্গঠন এবং দেশের জন্য তার দায়িত্ববোধকে তুলে ধরে।
বর্তমান সময়ে মেসি ইন্টার মায়ামি ক্লাবে তার দক্ষতা বজায় রেখেছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। তিনি জীবনের দর্শনকে সংক্ষেপে প্রকাশ করে বলেন, “কখনো হাল ছাড়তে হয় না। পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করতে হয়। শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও অন্তত নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য যা যা সম্ভব, সবই করা হয়েছে।” এই কথাগুলো তার মানসিক শক্তি এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
মেসির এই উন্মোচনটি তার ভক্ত এবং ফুটবল জগতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বহু তরুণ খেলোয়াড় তার এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে যে, সাফল্যের পথে ব্যর্থতা এবং মানসিক চাপ স্বাভাবিক, তবে তা অতিক্রম করা সম্ভব।
আর্জেন্টিনার ফুটবল সমিতি মেসির এই প্রকাশের পর তার অবদানকে সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। একই সঙ্গে, মেসি ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য কী ভূমিকা রাখবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মেসি বর্তমানে ইন্টার মায়ামিতে তার মৌসুমের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামী ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্সের দিকে নজর রাখা হবে। তার দল আগামী সপ্তাহে লা লিগার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যেখানে মেসি আক্রমণগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালের পর মেসি মানসিক সংকটে ভুগে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে কয়েক মাসের মধ্যে ফিরে এসে দেশের ফুটবলে নতুন সাফল্য অর্জন করেন। তার এই যাত্রা ক্রীড়া জগতে মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাসের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়।



